1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির উদ্দীন তোতাকে সংবর্ধনা দেবহাটায় প্রভাবশালী কর্তৃক নির্যাতিত সংখ্যালঘু পরিবারের সংবাদ সম্মেলন দেবহাটা’য় আ.লীগের নৌকার দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ দেবহাটায় আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুলের সংবাদ সম্মেলন যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা : শ্বশুর আটক কুলিয়ায় জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় করলেন আছাদুল হক বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সাইন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে কমিউনিটি ওয়াশ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত পাইকগাছা উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাকল্পে জরুরী মতবিনিময় রেড ক্রিসেন্ট পক্ষ থেকে বাংলাদেশ অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মাঝে মাস্ক প্রদান

খলিশাখালিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, প্রশাসনের সহযোগীতা চান ভূমিহীনরা

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালিতে প্রভাবশালীদের নিকট থেকে দখলকৃত সহস্রাধিক বিঘা জমি দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডা. নজরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের পর পাল্টা কর্মসূচী হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সেখানে অবস্থানরত ভূমিহীনরা।



বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় শতশত ভূমিহীন পরিবারের নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে খলিশাখালি এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ভূমিহীনরা সরকারি জমিতে তাদের অধিকার দাবি করে তা বন্দোবস্তের উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এসময় বক্তব্যে ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে অন্যতম হরিপদ স্বর্ণকারের ছেলে সুনিল স্বর্ণকার তার বক্তব্যে বলেন, দেশ বিভাগের আগে গাতীদার চন্ডিচরণ ঘোষের প্রজা ছিলেন তার পূর্বপুরষেরা। তারই সুত্র ধরে প্রজা মূলে ডিএস কোবলা, পাট্টা দলিল গ্রহন করেন সেসময়ের প্রজারা।



সুনিল স্বর্ণকার বলেন, ১৯৫২ সালে সুরেন চৌধুরী শিমুলিয়ার কাজী আব্দুল মালেকের সাথে কিছু জমি বিনিময় করে এবং বাকি জমি লীজ নিয়েছেন দাবী করে সেসময় থেকে প্রজাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করতে থাকে মালেক কাজী সহ তার লোকজন। পরে এক রাতে তারা নদীর বাধ কেটে প্রাজাদের ঘরবাড়ি নদীতে ভাঁসিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেন প্রজারা। এর আগে জাল কাগজপত্র সৃষ্টি এবং তৎকালীন ভূমি জরিপ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কাজী আব্দুল মালেকরা এসএ রেকর্ড নিজেদের নামে করিয়ে নেন। পরবর্তীতে জাল জালিয়াতি করে প্রাপ্ত ওই সমূদয় জমি তারা তাদের ওয়ারেশ গণের নামে প্রিন্ট রেকর্ড করিয়ে নেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালীর কাছে জমি বিক্রি ও তাতে মৎস্য ঘের করতে থাকেন।



তিনি আরো বলেন, দখলচ্যুত যেসব প্রভাবশারীরা সংবাদ সম্মেলনে ওই সম্পত্তি তাদের ব্যাক্তি মালিকানা বলে দাবী করেছেন, ডিএস রেকর্ড মোতাবেক সেখানে তাদের কোন স্বত্ব থাকার কথা নয়। আমার ঠাকুর দাদার সূত্রে আমরা ৩৬ বিঘা জমির মালিক। আমাদের মত তাহের সানা, মহাদেব সরদার, নবীন বিশ্বাস সহ অন্যান্যরা মিলে মোট ৪২ একর ৫৭ শতক জমির মালিক। এরকম বহু প্রজাদের উত্তরসূরীদের প্রাপ্য জমি জালিয়াতি করে বছরের পর বছর ধরে মালেক কাজী সহ ওইসব প্রভাবশারীরা ভোগদখল করে কোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছিলেন।



একপর্যায়ে আমরা ভূমিহীনেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের জমি পুনরুদ্ধারের জন্য দখলে নিয়েছি। ভূমিহীনেরা বলেন, খলিশাখালির জমি আমরা যারা দখলে নিয়েছি, তারা প্রত্যেকেই অসহায়, ভূমিহীন এবং অধিকাংশরাই তৎকালীন প্রজাদের উত্তরসূরী। অথচ জমির দখল নেয়ার পর থেকে আমাদেরকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করছেন দখলচ্যুত প্রভাবশালীরা। এমনকি খলিশাখালিতে কথিত আকরাম ডাকাতসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী অবস্থান করছে বলেও বিভিন্ন প্রশাসনের কাছে অপপ্রচার চালিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত ও ভূমিহীনদের বিপক্ষে দাড় করানোর চেষ্টা করছে প্রভাবশালীর ওইসব দখলচ্যুতরা। শুধু তাই নয়, জমি দখলের পর থেকে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে খলিশাখালি জনপদের নীরিহ ভূমিহীনদের ওপর হামলাসহ তাদেরকে নেতৃত্ব শূন্য করতে কয়েকজনকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সহযোগীতা চান ভূমিহীনেরা।



সমাবেশকালে উক্ত জমি বন্দোবস্তের দাবীতে এবং জালিয়াত চক্র মালেক কাজী সহ অন্যান্যদের ভৎসনা করে ভূমিহীনদের দেয়া স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে খলিশাখালি জনপদ। এদিকে দখল পরবর্তী প্রভাবশালীদের নানামূখী হুমকির ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে খলিশাখালির ১০০.৯৮ একর জমির মালিক দাবিকারী বিল কাজলার বিজয়কৃষ্ণ মন্ডল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৩০/৩২ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিঃ জেলা  ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেবহাটা থানার ওসিকে উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও এসিল্যান্ডকে তদন্তপূর্বক ওই জমির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে সুষ্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ