1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ঘরে সুখেই আছেন পাইকগাছার ৫২০ পরিবার

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা : পাইকগাছায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ঠিকানায় মুজিববর্ষের রঙিন ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই আছেন ৫২০ পরিবার। এদের মধ্যে অনেক পরিবার হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালন করে বাড়তি আয় করার মাধ্যমে নতুনভাবে জীবন শুরু করেছে। অনেক পরিবার তাদের সংসার সুখের করতে নানা ধরণের আয় বৃদ্ধিমূলক কাজ শুরু করেছেন। অনেকেই আবার নতুন নতুন আসবাব পত্র দিয়ে ঘর সাজিয়েছেন।



এভাবেই প্রায় প্রতিটি পরিবার মুজিববর্ষের ঘরে ভাল ও সুখেই আছেন এমনটাই জানিয়েছেন। দেশের একটি মহল যখন প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এ প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এমনই এক মুহূর্তে এলাকার আবাসনের বাসিন্দারা কেমন আছে এবং মুজিববর্ষের ঘরে কেমন চলছে তাদের জীবন-সংসার। খোঁজ নিতে বুধবার যাওয়া হয় এলাকার বিভিন্ন আবাসনে। উপজেলার কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী প্রধান সড়কের পাশে গোলাবাটি এলাকায় দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে আবাসনের ১০টি ঘর।



অন্যান্য দুস্থ ব্যক্তিদের ন্যায় এখানে ঘর পেয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন। সমাজে পিছিয়ে পড়া এ ধরণের জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় আনতে স্থানীয় প্রশাসন এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানাযায়। এখানকার বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে মিল দেখে মনে হয়েছে এখানে যেন সুখের মেলা বসেছে। অবসর সময়ে এক পরিবার আরেক পরিবারের সাথে গল্প করে সময় পার করছে। কোন পরিবার বাড়তি আয়ের জন্য হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালন করছে। দেখে বুঝার উপায় নেই কিছু দিন আগে এরা গৃহহীন কিংবা দুস্থ-অসহায় ছিল। কথা হয় তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজনের সাথে। জুঁই জানায়, সমাজে আমরা অনেক উপেক্ষিত ছিলাম। আমাদের কেউ ঘর ভাড়া দিতো না।



এখানে ঘর পেয়ে আমরা অনেক খুশি। আমরা এখানে সুখেই আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ। আরেক তৃতীয় লিঙ্গের মারুফা জানান, আমরা এখানে এখন হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালন করে বাড়তি আয় করছি। হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ধারে প্রথম পর্যায়ে করা হয় ৫০টি ঘর। মূল শহর থেকে এটি একটু দূরত্বে হলেও এখানকার পরিবেশ অন্যান্য আবাসনের চেয়ে অনেক ভাল। এখানে ঘর পেয়েছেন কয়েকজন বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী।



৭০ বছরের বৃদ্ধ মহিন জানান, আর কতদিন বাঁচবো জানিনা। তবে জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে এমন সুন্দর ঘরে থাকতে পারবো এ আশা ছিল না। বৃদ্ধ বয়সে পরিবার নিয়ে রঙিন ঘরে সুখের সাথে বসবাস এটি অনেকটাই দুঃস্বপ্নের মত মনে হলেও এটাই সত্যি, এটাই বাস্তব। আমরা অনেক ভাল আছি, অনেক সুখে আছি। মুজিবরের মেয়ে হাসিনা যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী না হতো তা হলে হয়তো এমন সুখ আমাদের কপালে জুটতো না। আমি ও আমার পরিবার নামাজ পড়ে হাসিনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে এবং তাকে ভাল রাখে এবং তার পিতাকে বেহেস্ত নছিব করে। প্রতিবন্ধী নূরী বেগম জানান, আমি প্রতিবন্ধী এরআগে খুবড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে কোন রকমে বাস করতাম।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার একটি রঙিন ঘর দিয়েছে। ভালমন্দ তেমন কিছু খেতে পারলেও পরিবার নিয়ে সুন্দর ঘরে শান্তিতে থাকতে পারছি। ইউএনও স্যার মাঝে মধ্যে আসেন আমরা কেমন আছি খোঁজ খবর নেন। আমারমত একজন প্রতিবন্ধীর জন্য এটি অনেক বড় পাওয়া। রাড়–লী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ব্রিজের পাশেই হিতামপুর মৌজায় নির্মাণ করা হয়েছে ৮৬টি ঘর। এখানে ঘর পেয়েছে মামুন গাজী নামে এক ভ‚মিহীন ব্যক্তি। মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে আমার কোন জায়গা-জমি নাই। আমি পরিবার নিয়ে কবর স্থানে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছি। আমার কোন ঠিকানা ছিলনা। আমি পরিবার নিয়ে কবর স্থানে বাস করি এটি জানতে পেরে ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্যার আমাকে একটি ঘর দিয়েছে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে সুন্দর ঘরে সুন্দর ভাবে জীবন-যাপন করছি। আমি প্রধানমন্ত্রী ও ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যারের নিকট চির কৃতজ্ঞ।



জুঁই, মারুফা, নূরী ও বৃদ্ধ মহিনের মত প্রায় প্রতিটি পরিবার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মুজিববর্ষের ঘরে সুখেই আছেন, ভালই আছেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষে দেশের ১জন মানুষও গৃহহীন থাকবে না এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় দুটি ধাপে অত্র উপজেলায় ৫২০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ জানুয়ারী প্রথম পর্যায়ের ২২০টি এবং ২০ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩শ ঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।



প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনীর মধ্য দিয়ে এলাকার দুস্থ ও ভ‚মিহীনদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি সহ এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মহৎ এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, এতো অল্প সময়ের মধ্যে ৫২০টি ঘর নির্মাণ করা অনেক কঠিন ও চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশেষ করে ঘরের জন্য যে সরকারি জমির প্রয়োজন ছিল তা চিহ্নিত করা এবং দখল মুক্ত করা অনেক কঠিন ছিল।



এরপরও নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে হৃদয়ে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের গৃহনির্মাণ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী দেশের দুস্থ ও ভ‚মিহীন পরিবারের জন্য জমি সহ ঘর প্রদান করে যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা দেশের মানুষের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। উপক‚লীয় দূর্যোগ প্রবণ এলাকায় নানা বৈরী পরিবেশের মধ্যে দিনরাত পরিশ্রম করে এলাকার ৫২০টি দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছি এ প্রকল্পের এটিই বড় সফলতা।



ছোট খাটো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, ইউপি চেয়ারম্যান, এসিল্যান্ড ও ভ‚মি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে একটি সুন্দর আবাসন নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। কাজ করলে ভুল হতেই পারে, কাজের মধ্যে ছোট খাটো ত্রুটি থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় ছোট খাটো ত্রুটির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহৎ এ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে এটা কখনো কাম্য নয়।



দেশের ১ লাখ ১৯ হাজার পরিবারকে জমি সহ রঙিন ঘর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মানবিকতায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা শুধু বাংলাদেশ নয় উন্নত বিশ্বে অনুকরণীয় ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ ধরণের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যারা তৎপর রয়েছে তারা মূলত প্রধানমন্ত্রীর মহৎ এ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি মানবতাকে অস্বীকার করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান ইউএনও এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ