1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাথন্ডা আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার নতুন সভাপতি প্রকৌশলী শেখ তহিদুর রহমান ডাবলুকে শুভেচ্ছা পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের জয়লাভ : সভাপতি – পঙ্কজ, সম্পাদক – তৈয়ব এগিয়ে চলছে পাইকগাছা-কয়রা-খুলনা সড়কের উন্নয়ন কাজ সাতক্ষীরায় কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি রবি সাতক্ষীরায় বঙ্গবন্ধু আন্তঃ বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধন সাজেক্রীস নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মীর তানজির আহমেদ’র আহবানে মিলন মেলা কোরাইশী ফুড পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পাইকগাছা পৌরসভা বিএনপি’র সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ৪৪তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং দুই-দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলা এমপি বাবুর সাথে জেলা পরিষদ সদস্য রবিউল ইসলামের শুভেচ্ছা বিনিময়

প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে ভারত

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আজ ভারতের ৭২ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালে আজকের এই দিনেই সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। তারপর থেকে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি ধুমধাম করে পালিত হয় প্রজাতন্ত্র দিবস। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সব অনুষ্ঠানেই কিছুটা কাটছাঁট আনা হয়েছে। দিল্লিতে ছোটো করা হয়েছে কুচকাওয়াজের দৈর্ঘ্যপথ। অন্যবারের মতো এবারও বিজয় চক থেকে শুরু হয়েছে কুচকাওয়াজ। তবে লালকেল্লার পরিবর্তে কুচকাওয়াজ শেষ হয়েছে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে অংশগ্রহণকারী জওয়ানের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। করোনা সুরক্ষা বিধির জন্য কমেছে দর্শক সংখ্যাও। এবার দর্শক সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ১৫ বছরের নীচে শিশু এবং প্রবীণ লোকজনকে অনুষ্ঠানে হাজির থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এবার প্রথমবার প্রজাতন্ত্র দিবসে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের মহড়া দেখা গেছে। একটি রাফায়েল, দুটি জাগুয়ার এবং দুটি মিগ-২৯ বিমান ছিল। ৩শ মিটার উচ্চতায় এবং ঘণ্টায় ৭৮০ কিলোমিটার বেগে মহড়া চলেছে। এবার সিলকা সমরাস্ত্র সিস্টেমের নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৪০ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের (সেলফ প্রপেলড) ক্যাপ্টেন প্রীতি চৌধুরী। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একমাত্র নারী কমান্ডার তিনি।

মঙ্গলবার সকালে দিল্লির রাজপথে শুরু হয় কুচকাওয়াজ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ে দিল্লি। বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নজর রেখেছে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর। পরীক্ষা করা হচ্ছে বিভিন্ন গাড়ির নথিপত্র। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালেই দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘দেশবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা। জয় হিন্দ।’

গণতান্ত্রিক ভারত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথ খুব একটা সহজ সরল ছিল না। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ভারতবর্ষ। কিন্তু সে সময় ভারতের নিজস্ব কোনও স্থায়ী সংবিধান না থাকায় ব্রিটিশ সরকার প্রণোদিত ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্টের সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী স্বাধীন ভারত শাসিত হত।

ক্রমশই প্রয়োজন দেখা যায় ভারতের নিজস্ব সংবিধানের। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান সভার ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন ভারতের রাজ্য সভার নির্বাচিত সদস্যের দ্বারা সংবিধান সভার সদস্যদের নির্বাচন করা হয়। ড. বি. আর আম্বেদকর, জওহরলাল নেহরু, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ এই সংবিধান সভার সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতার দু’সপ্তাহ পর ২৯ আগস্ট ড. বি. আর আম্বেদকরের অধ্যক্ষতায় ভারতে স্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশে একটি খসড়া কমিটি গড়ে তোলা হয়। ১৯৪৭ সালের ৪ নভেম্বর ড. বি. আর আম্বেদকরের নেতৃত্বকারী খসড়া কমিটি সংবিধান সভায় ভারতীয় সংবিধানের খসড়া জমা দেয়।

এরপর দু’বছরেরও অধিক সময় ধরে জনগণের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও নানান চিন্তাভাবনার পর প্রস্তাবিত সংবিধানে কিছু সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান সভায় ভারতীয় সংবিধানের খসড়া গৃহীত হয়। অবশেষে সভার ৩০৮ জন সদস্য ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের দুটি হস্তলিখিত কপিতে সাক্ষর করেন। এর একটি ছিল ইংরেজিতে ও অপরটি হিন্দিতে। এর ঠিক দু’দিন পর ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ হয়েছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি। নতুন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, সংবিধান সভা ভারতীয় সংসদের ভূমিকা গ্রহণ করে। ২৬ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পিছনেও একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোরে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস অধিবেশনের ডাক দেওয়া হয়। এই অধিবেশনে একটি প্রস্তাব পেশ করে ঘোষণা করা হয় যে, ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে ব্রিটিশ সরকার যদি ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা না দেয়, তাহলে ভারতের পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করা হবে।

ওই সময়সীমার মধ্যে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা ডোমিনিয়নের মর্যাদা লাভ না করায় কংগ্রেস ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের ঘোষণা করে সক্রিয় আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ২৬ জানুয়ারির গুরুত্ব বজায় রাখতে, তাই ১৯৫০ সালে এ দিনই ভারতের সংবিধান গৃহীত হয় ও এই দিনটি গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ