1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

বাঘের পেটে দুজন, ফিরে আসা ব্যক্তির বক্তব্যে ‘সংশয়’

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

বিজয় মন্ডল : সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বহুল আলোচিত সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত বলে প্রচারিত হওয়া ঘটনার জট খুলতে শুরু করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা কৈখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের কফিল উদ্দীন বাঙ্গালের পুত্র রতন (৩৫), মনো মিস্ত্রীর পুত্র মিজানুর রহমান (৪০) ও জয়াখালী গ্রামের সাত্তারের পুত্র আবু মুসা (৪০)। তিনজনের মধ্যে রোববার (২৪ জানুয়ারি) মুসা বাড়ি ফিরেছে। তবে তার দেওয়া ঘটনার বর্ণনায় নিয়ে ‘সংশয়’ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী।

মুসা বাড়ি ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চোরাই পথে ভারত থেকে গরু আনার কামলা হিসেবে মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে গত বুধবার রাতে ভারতের উদ্দেশে চোরাকারবারীরা তাদেরকে পাঠায়। বৃহস্পতিবার ভারত সীমান্তে সুন্দরবনের চিলমারী নামক জায়গায় পৌঁছানোর পরে দুপুরের রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে বনে প্রবেশ করলে একটি বাঘ প্রথমে মিজানের উপর আক্রমণ করে। মিজানকে বাঘে ধরলে রতন ডাক চিৎকার করে। তখন বাঘটি রতনকেও ধরে ফেলে। এ সময় মুসা খালের মধ্যে লাফিয়ে পড়ে নৌকার আড়ালে গিয়ে জীবন বাঁচায়। অবশেষে মুছা নৌকায় করে দূরে এসে বাড়িতে ফোন করে।

অবশেষে দুই দিন ভারতে থাকার পরে আজ মুছা বাড়ি ফিরে আসে। মুসা আরও বলেন, মামুন ও আজিজুল তাদেরকে কামলা হিসাবে ভারতে গরু আনতে পাঠায়।

অপর দিকে রতনের পিতা কফিলউদ্দীন ও স্ত্রী তাসলিমা জানায়, বুধরার রাতে সাহেবখালী গ্রামের জাহার আলী কয়ালের পুত্র মামুন কয়াল, মতিয়ার গাজীর পুত্র সোহরাব ও পশ্চিম কৈখালী গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র আজিজুলসহ ৫/৬ জন রতনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ভারতে পাঠানোর জন্য। বৃহস্পতিবার মামুন তাদের বলে, সে মুসার মাধ্যমে জানতে পেরেছে রতন ও মিজান সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছে।

এদিকে বাড়ি ফিরেই মুছা চোরাকারবারীদের নিয়ন্ত্রণে চলাফেরা করছে এবং তাদের বানানো গল্প বলছে বলে অনেকে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। এর আগে শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নে দু’জন ব্যক্তি বাঘের আক্রমণে নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে বলে সামাজিক ও গণমাধ্যমে ঝড় বইতে থাকে। তারই আলোকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে। নিখোঁজ রতনের পরিবার আর্থিক সংকট ও চোরা-সিন্ডিকেটের মোবাইলে হুমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছে বলে এ সাংবাদিকদের বলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, সাতক্ষীরাকে চোরাকারবারী মুক্ত করতে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার যখন নিজ বাহিনীকেও ছাড় দিচ্ছেন না, ঠিক সেই সময়ে চোরাকারবারীরা নিরাপদ রুট হিসেবে কৈখালী ও সুন্দরবনকে বেছে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোরাকারবারীরা তাদের অপকর্মের কথা সরাসরি প্রকাশ করলেও আজও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতেই উৎসাহিত হয়ে নিখোঁজদের পরিবারদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া মুসার বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা বলছেন, গরু আনতে গেলে যেসব সরঞ্জাম তাদের কাছে থাকার কথা তা তাদের কাছে ছিল না। ছোট একটা নৌকাযোগে এই তিনজন গরু আনতে যাওয়ার কথা অবাস্তব বলেও দাবি করছেন গ্রামবাসী।

গ্রামবাসীদের দাবি, মুসাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে। সেই সাথে চোরাকারবারীরদের সিন্ডিকেটের আসল রহস্যও উদ্ঘাটিত হতে পারে।

বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে কৈখালী। নদী পার হলেই ভারত। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারী সিন্ডিকেট হর-হামেশায় কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন অফিস থাকলেও এ চোরাকারবারীরা প্রশাসনের যোগসাজশে বুক ফুলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির কোনো কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার বিষয়ে মুসার বক্তব্য নিয়ে বন বিভাগের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা কমদতলা স্টেশন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলে বলেন, মুসা আসল ঘটনা লুকাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। তবে সংরক্ষিত সুন্দরবনে প্রবেশের যে গল্প মুসা বলছে তার বাস্তবতা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘মুসা কোনো চোরাকারবারীর সাথে যুক্ত থাকলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ