1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

হারির টাকা চাইলে হুমকি প্রদান: প্রভাবশালী ঘের মালিক গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে পাওনাদাররা ক্ষুব্ধ!

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

এসএম বাচ্চু, তালা প্রতিনিধি : ৩টি বিলের ১জন মৎস্য ঘের মালিকের বিরুদ্ধে হারির টাকা না দেয়া, কর্মচারীদের বেতন বাকি রাখা ও ঘেরের শেয়ারদের টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ নানান অভিযোগ উঠেছে।এঘটনায় জমি মালিক,ঘেরের শেয়ার ও কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রভাবশালী ঘের মালিক তালা উপজেলার খলিলনগরের গোলাম রসুল জনরোষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গত রোববার সন্ধ্যায় খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ কক্ষে সালিশ সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার পুনরায় সালিশ সভার তারিখ নির্ধারন করা হয়। তবে, এদিন সালিশ না হওয়ায় প্রায় ২শ’ জমি মালিক ও শেয়ারা আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের আলাউদ্দীন মোড়ল,মনরঞ্জন কর্মকার, সামাদ মোড়ল,মোস্তাফিজুর রহমান ও লিয়াকত মোড়ল সহ একাধিক ভুক্তভোগী ব্যক্তি জানান, খলিলনগর ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা বিলের প্রায় ১২০ বিঘা জমি, নলতা বিলের প্রায় ৮০ বিঘা জমি এবং সত্যমারী বিলের প্রায় ১০০ বিঘা জমি হারি করে নিয়ে মাছের ঘের করে আসছিল প্রসাদপুর গ্রামের সৈয়দ মুন্সির ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম রসুল। দীর্ঘ ৫/৭ বছর ধরে মাছের ঘের করাকালে গোলাম রসুল কয়েকজন ব্যক্তির জমি জোরদখল নেয়। এছাড়া ঘের করাকালে অন্তত ৫০জন ব্যক্তিকে ঘেরের শেয়ার হিসেবে নেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আজ পর্যন্ত গোলাম রসুল ঠিকমতো জমি মালিকদের হারির টাকা পরিশোধ করেনি। টাকা চাইতে গেলে তিনি নানান টালবাহানা করেন। অনেক জমি মালিকেেক হারির টাকা না দিয়ে হুমকি দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সত্যমারী বিলের জমি মালিকরা ইতোমধে তাদের জমি উদ্ধার করে নিয়েছেন। কিন্তু সেই জমি মালিকদের মধ্যে অধিকাংশ জমি মালিক এখনও হারীর টাকা পায়নি। এবিষয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করলেও অজ্ঞাত কারনে অভিযোগগুলো আলোরমুখ দেখেনি। মাছিয়াড়া গ্রামের স্বপন রায় ও মোজাম খাঁ সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, হোগলাডঙ্গা এবং নলতা বিলের শতাধিক জমি মালিক ও শেয়াররা চলতি এবং বিগত বছরগুলোর বাবদ ঘের মালিক গোলাম রসুলের কাছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাবে। এছাড়া ঘেরের কর্মচারী এবং পানি সেচের শ্রমিকরা আরো লক্ষাধিক টাকা পাবে। এই টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ জমি মালিকরা তাদের জমি নিয়ন্ত্রনে নেয়ার চেষ্টা করে। সেসময় পুলিশ জমি মালিকদের ফিরিয়ে আনেন এবং রোববার সন্ধ্যায় খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ সভার আয়োজন করেন। সালিশ সভায় তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু, ঘের মালিক গোলাম রসুল ও খলিলনগর ক্যাম্প পুলিশ সহ জমি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশে টাকা আদায় সহ ঘেরের ভবিষ্যৎ নির্ধারন করতে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারী) পুনরায় দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু এদিন সালিশ না হওয়ায় জমি মালিক, ঘেরের শেয়ার ও অন্যান্য পাওনাদাররা আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এব্যপারে খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস. এম. আজিজুর রহমান রাজু বলেন, জমি মালিকরা যেন ঘের বাঁধতে না পারে এজন্য গোলাম রসুল থানায় অভিযোগ করেন। তৎপরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়’র উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ওই সালিশে অনেক লোক অভিযোগ করেন- তারা গোলাম রসুলের কাছে টাকা পাবে। সেই টাকার অংক আজকের সালিশে নির্ধারন করার কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান অসুস্থ্য থাকায় সালিশ হয়নি। তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, অনেক জমি মালিক টাকা পাবে এটা সত্য। কিন্তু কতো পাবে তা এখনও নির্ধান হয়নি। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ্য থাকায় আজ সালিশ করতে পারেনি। আগামী শনিবার পুনরায় দিন ধার্য্য করে দিয়েছি। এব্যপারে ঘের মালিক জি. এম. গোলাম রসুল বলেন, চলতি বছর এবং বিগত বছরের কিছু হারির টাকা বাকি আছে। যা’ খুব দ্রæত পরিশোধ করে দিবে। এছাড়া তেমন আর কোনও সমস্যা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ