1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লী ডাক্তারকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন : গ্রেফতার ৫  সাংবাদিক শাওনকে হত্যার হুমকি: প্রেসক্লাবের নিন্দা ও জিডি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি গিয়ে ইউএনও’র শীতবস্ত্র বিতরণ সখিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুলের গণসংযোগ ফেব্রুয়ারিতে খুলছে স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিক ক্লাস পাইকগাছায় চিংড়ি ঘেরের ম্যানেজারকে মারপিট করার ঘটনায় মামলা : আটক ১ পাইকগাছার দেলুটির দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নৌকা প্রতীকে ভোট দিন : শুভাশীষ পোদ্দার লিটন সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের মাতার ইন্তেকাল থানা পুলিশের উদ্যোগে গ্রাম পুলিশের মাঝে কম্বল বিতরণ

সাতক্ষীরায় ঘরের অভাবে ১১ বছর ধরে গোয়াল ঘরে বিধবা পারভিন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসান গফুর : সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের বিধবা পারভিনা খাতুন তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘ ১১ বছর আগে মারা গেছেনে। তার স্বামীর মৃত্যুর পর আর শ্বশুর বাড়ি ঠাঁই হয়নি পারভিনা খাতুন ও তার দুই সন্তান। সে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ছোট দুই ছেলে তুষার ও ইমরানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তবে বাবার বসত ঘরে জায়গা স্বল্পতার কারণে তার জায়গা হয়েছে গোয়াল ঘরের একটি কোনায়। একপাশে গরু ও অন্য পাশে একটি খাট দিয়ে ১১ বছর যাবৎ তিনি ওই গোয়াল ঘরে বসবাস করছেন। গত সোমবার সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে পারভিনা খাতুনের বাবা মৃত আফজাল সরদারের বাড়ি গিয়ে এই করুন দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় পারভিনা খাতুন বলেন, জায়গা জমি বিক্রি করে ১১ বছর আগে আমার স্বামী তালার জয়নগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বিদেশে পাড়ি জমান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর সড়ক দূর্ঘটনায় আমার স্বামী মরা যায়। এরপর আমার জায়গা হয়নি শ্বশুর বাড়ীতে। স্বামী মারা যাওয়ার পর আমাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। সেই হতে ছেলেদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকি। আমার বড় ছেলে তুষার (১৬) সংসারের অভাব ঘুচাতে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কাজ করে মুদি দোকানে। আর ছোট ছেলে ইমরান (১৩) স্থানীয় একটি স্কুলে লেখাপড়া করছে। পারভিনা খাতুন আরও বলেন, আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে কোন রকম মাঠে কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। এক পাশে গরু আর এক পাশে আমি থাকি। আমার কপাল এতোটাই খারাপ যে একটি বিধাবা ভাতার কার্ডও আমার কপালে জোটেনি। আমার বাবার বাড়িতে থাকার কোন ঘর না থাকায় দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমি গোয়াল ঘরে বসবাস করছি। অনেকে এসেছেন, দেখেছেন আমার দূরাবস্থা। অনেকে কথাও দিয়ে গেছেন। তবে বাস্তবে কেউ এখনও আমার পাশে এসে দাঁড়াননি। ঘর দেওয়ার কথা বল্লেও এখন কেউ কথা রাখেননি। পারভিনা খাতুনের ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমাদের নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের বোনের জন্য ঘর করার জায়গা থাকলেও আমরা তাকে ঘর করে দিতে পারিনি। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জমি আছে ঘর নাই এমন ব্যক্তিদের সরকারি অর্থায়নে ঘর করে দিচ্ছে। এছাড়াও আরও কর্মসূচি চলমান ও হাতে আছে। তারপরেও আমার বোনের ভাগ্যে একটি ঘর জোটেনি। অথচ অনেকের ঘর দিচ্ছে। আমার বোনও একটি সরকারী ঘর পাওয়ার যোগ্য। সে যেন সরকারিভাবে একটি থাকার ঘর পায় সেজন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। এ ব্যাপারে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আমার সাধ্যমতো তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবো। এ ব্যাপারে তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, ইউএনও মহোদয় বরাবর আবেদন করলে আমরা পরবর্তীতে তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ