1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:২২ অপরাহ্ন

তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ও বিকল্প পণ্যের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি গৃহসামগ্রী

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর মৃৎশিল্পীরা। তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ও বিকল্প পণ্যের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি গৃহসামগ্রী। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অস্তিত্ব¡ সংকটে পড়েছেন । এক সময় নরসিংদী জেলার মৃৎশিল্পের খ্যাতি ছিল দেশব্যাপী। জেলার শিবপুর, রায়পুরা, পলাশ ও বেলাবো উপজেলার হাজারো পাল পরিবার জড়িত ছিল এ শিল্পের সাথে। নদীপথে নৌকাযোগে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ হতো এ জেলার মৃৎশিল্পীদের হাতে তৈরি মাটির জিনিসপত্র। কিন্তু প্লাস্টিক, মেলামাইন, লোহা ও সিলভারের তৈরি সামগ্রীর দাপটে কমে গেছে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা। ফলে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের। মৃৎশিল্পের কাজ মোটেও সহজ নয়।মাটি দিয়ে তৈরি সামগ্রী রোদে শুকিয়ে চুল্লিতে পোড়ানো হয়, তারপর রং করে বিক্রির উপযোগী করা হয়। বাড়ির গৃহিনীরাও সহযোগিতা করেন এসব কাজে। এত শ্রম দিয়েও মৃৎশিল্পীরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না । এ কারণে পুরনো পেশাটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই, খুঁজছেন বিকল্প পেশা। জেলার বেলাবো, পলাশ ও শিবপুর উপজেলার হাজারো পাল পরিবারের মধ্যে এখন মাত্র আড়াই শতাধিক পরিবার ধরে রেখেছেন পূর্বপুরষের এ পেশা। পাল পরিবারের নতুন প্রজন্মের কেউই শিখছেন না মৃৎশিল্পের কাজ। ফলে ভবিষ্যতে এ শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার পথও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বলা যায়, এখন কেবল পালপাড়ার বেকার গৃহিণীরাই শিল্পটিকে টিকিয়ে রেখেছেন। বাড়িতে বেকার থাকার চেয়ে সংসারের উপার্জন বাড়াতে বাধ্য হয়ে বেকার গৃহিনীরা জড়িয়ে আছেন মাটির তৈজসপত্র তৈরির কাজে। শিবপুর উপজেলার লেটাবর গ্রামের মৃৎশিল্পী মনিন্দ্র চন্দ্র পাল বলেন, ‘তৈজসপত্র তৈরির জন্য এখন মাটি কিনে আনতে হয়। কেনা মাটি দিয়ে তৈরি জিনিসপত্রের খরচও বেশি পড়ে। এ যুগে বেশি মূল্যে এসব জিনিস কিনতে আগ্রহ দেখায় না ক্রেতারা। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হয়।’ একই গ্রামের সুনীল চন্দ্র পাল বলেন, ‘নতুন করে আমাদের সন্তানরা এসব মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অন্য পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে। আমরা যারা আছি অন্য কোন কাজ না জানার কারণে লেগে আছি।’ যোশর গ্রামের মৃৎশিল্পী শশী চন্দ্র পাল বলেন, ‘মৃৎশিল্পীরা বিভিন্ন এনজিওর চড়া সুদের ঋন নিয়ে বিপাকে থাকেন বছরের পর বছর ধরে। আমাদের এটাকে শিল্প বলা হলেও সরকারিভাবে কম সুদে কোন ঋণ সুবিধা আমরা পাই না। পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পাওয়া গেলে খেলনা, শোপিসসহ অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরি করে মৃৎশিল্পীরা বেঁচে থাকতে পারতো, শিল্পের ঐতিহ্যও রক্ষা করা যেত।’

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ