1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৩ অপরাহ্ন

নতুন রূপের সুন্দরবন দেখতে ছুটছেন পর্যটক

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

আলী ‍মুক্তাদা হৃদয় : শীতের শুরুতেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করছে এখানে। বছরজুড়ে সুন্দরবনে পর্যটকদের আসা-যাওয়া থাকলেও বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এলাকায় এই মুহূর্তে চলছে পর্যটকদের ভরা মৌসুম।

করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কেউই বনে আসতে পারেনি। এ কারণেই শীতের শুরুতে বনে পর্যটক-দর্শনার্থীদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে বলে জানান বন কর্মকর্তারা। এরইমধ্যে পশ্চিম সুন্দরবন খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন সাত হাজার পর্যটক। বনবিভাগ বলছে, দীর্ঘদিন ঘরে বন্ধ থাকার পর বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েই পর্যটকরা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ছুটছেন সুন্দরবনে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা কমেছে, কমবে রাজস্ব আদায়ও। খুলনা বিভাগীয় বন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পশ্চিম সুন্দরবন খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চল পরিদর্শন করেছে ৬৫ হাজার ১৪২ জন পর্যটক। এরমধ্যে বিদেশী পর্যটক ছিলেন ৪৪৩ জন। রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৫০ টাকা। কোভিডের কারণে চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ করা হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে নভেম্বর মাসে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন ৬৫ হাজার ৭৭ জন পর্যটক। রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ লাখ ২০ হাজার ৮১০ টাকা। অন্যদিকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নভেম্বর মাসে দেশী পর্যটক ছিল দুই হাজার ৬৫৬ জন, বিদেশী ৮৮ জন। রাজস্ব আদায় হয়েছিল সাত লাখ ৪২ হাজার ৩৯৫ টাকা। সে হিসেবে দেখা যায়, চলতি অর্থ বছরে নভেম্বর মাসে পর্যটকের সংখ্যা ও রাজস্ব আদায় বেড়েছে। সাম্প্রতিক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন সাতক্ষীরা শহরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, টানা সাত মাস বন্ধ থাকায় প্রকৃতি যেন সেখানে সেজেছে নতুনরুপে। তাছাড়া অনেকদিন পর বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটছেন সুন্দরবনে।

শ্যামনগরের বাসিন্দা বিজয় মন্ডল জানান, যৌবন ফিরে পেয়েছে সুন্দরবন। দীর্ঘদিন বর্জ্য না ফেলায় পরিবেশ দূষণও কমেছে সেখানে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল জানান, পর্যটকদের নিয়ে ভ্রমণের জন্য এখানে ২৫০টি ট্রলার রয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশ উন্মুক্ত হলেও পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম। সপ্তাহে একটিও ভাড়া পাচ্ছেন না ট্রলার মালিকরা। প্রায় পাঁচটি পরিবারের জীবিকা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। করোনার কারণে বন্ধ থাকা ও বর্তমানে পর্যটক না থাকায় এসব ট্রলার মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কলাগাছি ও দোবেকী দুইটি পয়েন্ট দিয়েই বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশ করছে পর্যটকরা। সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক।
খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসিন সময় বার্তাকে জানান, গত বছরে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছরে সেরকম পর্যটক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে রাজস্ব আদায়ও কমে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ