1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:০১ অপরাহ্ন

করোনায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় পর্যটন খাত

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনা মহামারির বিরূপ প্রভাবে বিপর্যস্ত সুন্দরবন কেন্দ্রিক উপকূলীয় পর্যটন খাত। করোনা মহামারির কারণে বিগত ২৫ মার্চ থেকে সুন্দরবনের পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। টানা সাত মাস ধরে সুন্দরবন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত ১ নভেম্বর থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে দেশি পর্যটকদের কিছু আনাগোনা থাকলেও বিদেশি পর্যটক শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

এ অবস্থায় প্রায় পর্যটক শূন্য সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। ম্যানগ্রোভ এ বনাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে ওঠা ট্যুরিজম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লঞ্চ, ছোট-বড় ট্রলারসহ তিন শতাধিক নৌযান প্রায় অলস পড়ে আছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন এক হাজারের মতো নৌ শ্রমিক-কর্মচারী।

অপরদিকে এ অবস্থা অব্যাহত থাকায় পর্যটন খাতে বন বিভাগের রাজস্ব আয়েও ভাটা পড়েছে। নৈসর্গিক এ বনাঞ্চলকে ঘিরে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের রয়েছে নানা কৌতূহল, প্রকৃতি প্রেমীরা ছুটে আসেন এখানে। পশ্চিম সুন্দরবনের কলাগাছিয়া, দোবেকি, কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া, হিরনপয়েন্ট, দুবলা, আলোরকোল ও নীলকমলসহ সমুদ্র তীরবর্তী এবং বনাঞ্চলের ছোট ছোট নদী-খালের জলরাশিতে লঞ্চ, ট্রলার ও বিভিন্ন নৌযানে চড়ে বছর জুড়েই অবিরত যাতায়াত দর্শনার্থীদের।

সুন্দরবনের এ পর্যটন খাতকে ঘিরে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও আশপাশের এলাকার হাজারও মানুষের কর্মসংস্থান। কিন্তু করোনা মহামারির শুরু থেকে আজ অবধি পর্যন্ত সবকিছুই থমকে আছে। অপরদিকে দীর্ঘদিন পর্যটকদের যাতায়াত না থাকায় দর্শনীয় স্থানগুলোর কাঠের ট্রেল, পুল ভেঙে পড়ছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও নীলডুমুর, মুন্সিগঞ্জ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ‘করোনা পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা অনেক কম। দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি চরমে। ভাটার সময় কলাগাছিয়া গেলে কাদা ভেঙে উঠতে হয়। উপরে উঠে হাত পা ধোয়ার জন্য কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। কাঠের তৈরি ট্রেলগুলোর অবস্থা একেবারেই নাজুক। যেকোনো সময় পড়ে গিয়ে দর্শনার্থীদের হাতপা ভেঙে যেতে পারে।’

সুন্দরবন ভ্রমণ করতে আসা মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘ট্রলার মালিকেরা সিন্ডিকেট করে পর্যটকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছে। গত বছর আমি নীলডুমুর থেকে কলাগাছিয়া গিয়েছিলাম ৮০০ টাকায় সেটা এ বছর বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নিয়েছে।’

অনুরূপভাবে আরও কয়েকজন দর্শনার্থী জানায়, গত বছর মুন্সিগঞ্জ থেকে দুই হাজার টাকা ভাড়া নিলেও এ বছর তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ ট্রলার মালিক সমিতির একজন চালক বলেন, ‘গত বছর ছাড়া এ বছরে ট্রলার সংস্কারের জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো ঠিক করে আবার চলাচলের উপযোগী করতে আমরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি।’

স্থানীয় সোনার বাংলা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের ম্যানেজার টুটুল জানান, ‘করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা দর্শনার্থী শূন্য হওয়া একটি বড় কারণ। এই সময়টা অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক শিক্ষা সফর হিসেবে সুন্দরবনকে বেছে নেয়, যেটা এবছর নেই। বর্তমান সময়ে ফ্যামিলি ট্যুর ছাড়া অন্য কেউ সুন্দরবন ভ্রমণে আগ্রহ প্রকাশ করছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় একদিকে যেমন পর্যটন খাতে বন বিভাগের রাজস্ব আয়ে ভাটা পড়েছে অন্যদিকে পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে মুন্সীগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনীর আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল এবং বন কেন্দ্রিক কটেজগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এ সমস্ত জায়গায় কাজ করা ব্যক্তিদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা। ইতিমধ্যে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েও গেছে।

সুন্দরবনের কলবাড়ি বরসা রিসোর্ট এর ইনচার্জ রাজু আহমেদ বলেন, ‘করোনা পরবর্তীকালীন সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা একেবারেই কম। অন্যান্য বছর এ সময়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকত। এ বছর পর্যটকের সংখ্যা নেই বললেই চলে। তার উপর আবার নতুন করে বন বিভাগ নিয়ম করেছে, যে সমস্ত দর্শনার্থীরা তিন বা তার বেশি দিনের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণ করবেন তাদেরকে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করতে হবে এবং সেটি রেঞ্জ কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে বিভাগীয় অফিস থেকে পারমিশন বা অনুমতি পত্র নিয়ে সুন্দরবনের ঢোকার অনুমতি পাবেন। এটি পর্যটকদের জন্য একটি বড় বিড়ম্বনা বলে একাধিক দর্শনার্থীরা আমাদের সাথে মত প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বলছে করোনার কারণেই তাদের এই কার্যক্রম।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে সুন্দরবনে পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগে গড়ে দুই লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সমাগম ঘটে। আর বছরে গড় রাজস্ব আয় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে থাকে। তবে এসব বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনের কলাগাছিয়া পয়েন্টকে আরও উন্নত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। পর্যটক বাড়ানোর জন্য করমজল থেকে কুমির নিয়ে আসার আলোচনা চলছে। কাঠ ক্ষণস্থায়ী হওয়ার কারণে আরসিসি পিলার দিয়ে ট্রেন তৈরি করার নকশা ইতিমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘ভাটার সময় পর্যটকদের বিড়ম্বনা এড়াতে ৫০ ফুট লম্বা সিঁড়ি করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে’। বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশি পর্যটক দেশে আসছে না। করেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হলে বিদেশি পর্যটক আমরা আশা করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা এম এ হাসান বলেন, ‘পর্যটক ও সরকারের রাজস্ব বাড়াতে কলাগাছিয়াতে কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র করা হচ্ছে।’ পর্যটকদের কাদায় ওঠানামার ভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাতো নতুন না, নদী শাসনের কারণে এই অবস্থা। চার বছর আগে নদী খননের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া আছে, সেটি আজ পর্যন্ত বাস্তবতার মুখ দেখেনি।’

পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এই বন কর্মকর্তাবলেন, ‘গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা বেশি। গত নভেম্বর মাসের ২১ তারিখ থেকে ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত পর্যটকদের রাজস্ব আয় বেড়েছে। আগামী রোববার পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এক বিশেষ মিটিং এর আয়োজন করা হয়েছে। সিঁড়িটা নির্মাণ করাই এই মিটিং এর মূল লক্ষ্য।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ