1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভারতে ১০০ কোটি মানুষকে টিকা : মোদিকে হাসিনার অভিনন্দন পরীমণি: স্কুলের মেধাবী ছাত্রী থেকে আলোচিত নায়িকা ক্যাচ মিস আর বেহিসেবি বোলিংয়ে হার দেবহাটায় চালককে অজ্ঞান করে ইজিবাইক ছিনতাই, গ্রেফতার-৩ জেলা প্রশাসকের সাথে সাতক্ষীরা সাইবার-ক্রাইম অ্যালার্ট টিমের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার নির্বাহী কমিটির সভা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালকের সাথে জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মতবিনিময় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত শার্শায় নৌকার মনোনয়ন জেরে হামলা: ইউপি সদস্যসহ আহত ২০ আ.লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা

একটি খামারবাড়ির স্বপ্ন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

মানুষ সারাজীবন স্বপ্ন দেখে কাটায়। আমিও স্বপ্ন দেখি। আমি একটি খামারবাড়ির স্বপ্ন দেখি। আমরা যৌথ উদ্যোগে সমন্বিত কৃষি খামার গড়তে চাই। সমবায় কৃষি খামার তৈরি করার ইচ্ছা আমার দীর্ঘদিনের। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ বর্তমান সরকারের একটি জনপ্রিয় প্রকল্প। খামার শব্দের অর্থ পশুপালন বা ফসল ফলানোর জায়গা। ফসল ঝাড়াই মাড়াই করার স্থান, শস্যাঙ্গন। খামারবাড়ি মানে শস্যাগার, গোলাবাড়ি।
শিক্ষকতার পাশাপাশি খামার করা আমার জন্য কিছুটা কঠিন। দিনাজপুর শহরে দু’খণ্ড জমি কেনার পর আমি এখন ফতুর। হাতে টাকা-পয়সা নেই। তবুও মনের জোরে খামার গড়ার কাজে নেমে পড়ি। প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমানো ১২শ টাকা দিয়ে দেশি মুরগির শেড তৈরির কাজ শুরু করি। খামারবাড়ির একদিকে আছে নার্সারি। নার্সারিতে বীজ থেকে চারা উৎপাদন ও বিপণন করা হয়। খামারবাড়ির চারপাশে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফলদ, বনজ, ভেষজ ও বাহারি লতা-গুল্ম শোভা পাচ্ছে। খামারবাড়ির উত্তরে আছে থাই পেয়ারা ও আমের বাগান। ফল বাগানে মৌসুমী শাকসবজি আবাদ করে বাড়তি আয় করা যায়। ফল বাগানের পার্শ্বে মিনিপুকুরে মাছ চাষ করা হয়। খামারবাড়িতে কবুতর, মুরগি,হাঁস, ভেড়া, ছাগল, গরু, মহিষ পালনের জন্য পৃথক পৃথক শেড/ছাউনি তৈরি করার পরিকল্পনা আছে।
বাবা বলতেন, ‘তিন টেক্কা হতে হবে’। এই তিন টেক্কা বলতে তিনি দক্ষ সমাজকর্মীকে বুঝিয়েছেন। বাবার কথা হলো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে তেভাগা পদ্ধতিতে। যে খামারে কাজ করবে সে পাবে লাভের এক ভাগ আর মালিক পাবে দুই ভাগ। মালিক খামারের জায়গা-জমি, অর্থ ও মালামাল সরবরাহ করবে। কথা প্রসঙ্গে বাবা বলেন, এই তিন টেক্কা কে হবে ? বাবা আমাকে, আমার ছোট ভাই বাবু ও ফুফাতো ভাই নুর আলমকে তিন টেক্কা বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাবা আজ বেঁচে নেই। আমরা বেঁচে থাকলেও সংসার নিয়ে যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। বাবার স্বপ্ন পূরণে আমি নতুন উদ্যমে খামার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ১৯৯৯ সালে প্রত্যন্ত গ্রামে বাবা খামারবাড়ির সূচনা করেন। বাবার স্বপ্ন ছিল গ্রামের বাড়িটিকে একটি খামার বাড়িতে রূপান্তরিত করা। বাবা সে লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছিলেন।
বাবা বাড়ির চারপাশে হরেক রকমের ফুল, ফল, বাহারি ও ঔষধি লতাগুল্ম রোপণ করেন। পুকুরে মাছ চাষ ও মৌসুমী শাক সবজি আবাদ করতেন। বাগানে উৎপাদিত টাটকা শাক সবজি ও ফলমূল খেয়ে আমরা তৃপ্ত হতাম। ২০০৬ সালে বাবার পরামর্শে আমরা যৌথ উদ্যোগে একটি ব্রয়লার মুরগির ফার্ম তৈরি করি। কিন্তু খামার করে আমরা লাভবান হতে পারিনি। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে ২০১৯ সালের মধ্যসেপ্টেম্বরে আমি একটি দেশি মুরগির খামার করার উদ্যোগ নিই। বাড়ির দক্ষিণ দিকে ৭৫ ফুট সীমানা প্রাচীরের মাঝখানে মুরগির শেড নির্বাচন করি। পরিত্যক্ত জায়গাটি পরিষ্কার করে ১৫ ঢ ১৫= ২২৫ বর্গফুট শেডের কাঠের ফ্রেম তৈরি করি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ‘বেঁচে থাকার জন্য কত দরকার’ নিবন্ধে উলে­খ করেন, ‘আমরা সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে যদি ১৬-১৭ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কিি ৎ চেষ্টা করতাম, তা বোধহয় সম্ভব হতো। এটা সম্ভব কেবল গ্রামীণ অর্থনীতির পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের ধারা। অন্যদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সুশিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব। অর্থাৎ গ্রামে আমার সব সম্পদ উজাড় করে দেওয়ার মাধ্যমে তা সম্ভব। আত্মসম্মান অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষা হলো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। মানবজীবনে আত্মমর্যাদার জন্য শিক্ষা ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। কৃষকই আমাদের দেশের উন্নয়নে প্রকৃত ভূমিকা পালন করছে। কৃৃষিক্ষেত্রে জাতির মেরুদণ্ড কৃষককে পতিত জমিতে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা। কৃৃষিভিত্তিক বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এজন্য সম্পদের সুষম বণ্টন ও কৃষি জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃৃষিতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে’। কৃষি উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ বলেন ১. নেহাৎ চাষাড়ে বুদ্ধিতে নয়, বুদ্ধিমানের বুদ্ধিতে করতে হবে। উৎপাদন ঠিক পরিমাণ হচ্ছে না। লেখাপড়া জানা লোক পল­ীগ্রামে বাস করলে আর চাষবাসটা বিজ্ঞানের সাহায্যে করলে উৎপাদন বেশি হয়, চাষাদের চোখ খুলে যায়। ২. পাশ্চাত্য বিজ্ঞান সহায়ে মাটি খুঁড়তে লেগে যা, অন্নের সংস্থান কর-চাকরি গুখুরি করে নয়, নিজের চেষ্টায় পাশ্চাত্য বিজ্ঞান সহায়ে নিত্য নতুন পন্থা আবিষ্কার করে।
গ্রাম হোক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। গ্রাম থেকে উন্নয়নের শ্রোতধারা প্রবাহিত হবে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িকে একটি খামারে রূপান্তরিত করা সম্ভব হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এদেশের উর্বর মাটি, পানি, আলো, বায়ু ও বিশাল জনসম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কৃষি উন্নয়নে চাই কৃষিঋণ। কৃষিঋণ দিয়ে কৃষিকর্মের উন্নতি বিধান করতে হবে। আমরা একটি খামারবাড়ির স্বপ্ন দেখি এবং কৃষিতে জীবনের রহস্য খুঁজে বেড়াই। স্বপ্নের খামারবাড়ি নির্মাণ করতে আমার কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন। একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়তে পাঁচ লক্ষ টাকা সুদমুক্ত কৃষিঋণের জন্য বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক : সতীর্থ রহমান

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ