1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

জামালপুরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী তারাকান্দিতে যমুনা সারকারখানা এলাকায় দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ১ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ৩টি মটরসাইকেল পুড়ানোসহ ৫টি দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ১নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি গেইটপাড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সংঘর্ষে, গুলিবিদ্ধ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে এবং পরে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অনেক চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, তারাকান্দি গেইটপাড় এলাকায় সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিজয় দিবসে ফুল দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এমন সময় স্থানীয় এমপি’র প্রতিনিধি সাখাওয়াতুল আলম মুকুলের নেতৃত্বে ৮০/৯০ জন নেতাকর্মী তাদের উপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ খবর ছডিয়ে পড়লে দু’পক্ষের লোকজন সংঘটিত হয়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে সাখাওয়াতুল আলম মুকুলের লোকজন আমাদের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে কয়েকটি গুলি বর্ষণ করে এবং আমরা যাতে বিজয় দিবস পালন করতে না পারি। সে জন্য এ পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে এমপি’র প্রতিনিধি সাখাওয়াত আলম মুকুল এর উপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় আওনা ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারাকান্দিতে আসি। সেখানে ১৬ ডিসেম্বর পালন উপলক্ষে যুবলীগের তৈরী মঞ্চ দেখতে আসলে রফিকুল ইসলামের লোকজন আমাদের উপর হামলা করে এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি ও মঞ্চ ভাংচুর করে। এখানে গুলিবর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জানা গেছে, উক্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছে এবং তাঁরা হলেন, সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬), ফাহিম (১৮), মিজানুর রহমান (২৫), হেলাল উদ্দিন (২৫), হাফিজুর রহমান (২৫), সাগর মিয়া (১৮) আব্দুল আজিজ (৪২), গাজিউর রহমান (৫৫), অন্তর (১৬), ইউসুফ আলী, জাহিদুল হাসান রনি (২১), উজ্জল মিয়া (৩৩) আজমত আলী (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৩৩), বেলাল হোসেন (৪০), মিন্টু মিয়া (৩৫) সাজিদ হাসান (২১) জাকির হোসেন, আনোয়ার হোসেন (৫০), লাল চান (২৪), লিটন মিয়া (৩৫), ঠান্ডু মিয়া (৩২)। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গুরুতর আহতদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গুলিবিদ্ধ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঠান্ডু মিয়া, হাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, স্বপন মিয়া ও আবুল হোসেনসহ ৬ জনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। গুলি বর্ষণ ও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও ফাঁকাগুলি করেনি। তবে এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ