1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৪ অপরাহ্ন

অযত্নে মরে যাচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : অযত্ন আর অবহেলায় মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুণছে ঝিনাইদহে অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন বটগাছটি। ইতোমধ্যে গাছটির বেশিরভাগ ডালপালা মরে ঝরে পড়েছে। বটগাছটি দেখভালে বনপ্রহরী থাকলেও বিন্দুমাত্র যত্নের ছাপ নেই গাছটির দেহে। তবে আব্দুল খালেক নামে একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় গাছটির যত্ন নিচ্ছেন। বৃহত্তম এ বটগাছটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে কালীগঞ্জ-আড়পাড়া পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত। বট গাছটির বয়স আনুমানিক ৩০০ বছর। এটি ১১ একর জায়গাজুড়ে তার শাখপ্রশাখা ছড়িয়ে রেখেছে। গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট। বর্তমানে গাছটি ৪৫টি বটগাছে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শণার্থী কালের স্বাক্ষী এ গাছটি দেখতে আসেন।

এ গাছের জন্ম সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা না গেলেও এলাকার বয়োবৃদ্ধদের মুখে জানা যায়, একটি কূপের পাড়ে ছিল এ গাছের মূল অংশ। তখন জনবসতি ছিল খুবই কম। সড়কের পাশে এ গাছটি ছিল ডালপালা পাতায় পরিপূর্ণ। গাছের তলায় রোদ-বৃষ্টি পড়ত না। মাঘ মাসের শীতের রাতেও গাছের নিচে থাকতো গরম। আবার গ্রীষ্মে গাছের নিচে গেলে শীতল অনুভূতি হতো। পথচারীরা গাছের তলায় শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিতেন। বাস্তবে এ এলাকায় সুইতলা নামে কোনো স্থানের অস্তিত্ব নেই। তাই বয়োবৃদ্ধদের ধারণা, পথশ্রান্ত পথিকরা যখন এ মনোরম স্থানে শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিতেন, তখন থেকেই অনেকের কাছে এটি সুইতলা বটগাছ বলে পরিচিতি লাভ করে। আর এর থেকেই নামকরণ হয় সুইতলা বটগাছ। মূল গাছটি এখন আর নেই। বর্তমানে প্রায় ১১ একর জমি দখল করে নিয়েছে এ বৃহত্তম গাছটি। গাছটি কেন্দ্র করে পাশেই বাংলা ১৩৬০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মল্লিকপুরের বাজার। বটগাছটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ও পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে ১৯৯০ সালে সরকারিভাবে একটি রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ না করায় রেস্ট হাউসটি এখন আর বাসযোগ্য নয়। ফলে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকদের আসাও বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে, ঐতিহাসিক এ বটগাছটি দেখভালের জন্য বাংলো বানিয়ে শাহিন কবির নামে একজনকে বনপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মানুষকে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে লোকজন গাছের ডালপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি শাহিন। তিনি জানান, কথা বলতে বন কর্মকর্তার নিষেজ্ঞা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ