1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সুইডেনের আদলে ২০০ কি.মি. বৈদ্যুতিক সড়ক বানাচ্ছে ভারত শিগগির বিয়ে করতে যাচ্ছেন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা! ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার তাগিদ ৪ মন্ত্রীর নরসিংদী পলাশে এক নারীর স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে ৭ নারী গ্রেফতার নলতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলেন তুফান গড়ইখালীর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু’র নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় কুলিয়ায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আছাদুল হকের মোটর শোভাযাত্রা দেবহাটার ওসি-সেকেন্ড অফিসারকে বদলী, ভারপ্রাপ্ত ওসি ফরিদ আহমেদ খলিশাখালি সহস্রাধিক বিঘা জমি দখলের ঘটনায় সরেজমিনে মামলার তদন্তে পিবিআই সাতক্ষীরায় তথ্য অধিকারের ওপর সচেতনতামূলক প্রচারণা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভূয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের উৎথান : বিপাকে পেশাদার সাংবাদিক

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫১০ বার পড়া হয়েছে

এসএম বাচ্চু,তালা: ভুয়া মানবাধিকার কর্মি আর ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ব্যে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চরমে পৌঁছেছে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায়। সাংবাদিক পরিচয়ে এরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানপাট দখল, থানায় দালালী, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে।
ভুয়া সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে এবং তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা নিজেদেরকে ’মানবাধিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দামি বেশভূষা, হাতে ক্যামেরা, বাহন হিসেবে মোটর সাইকেল বা প্রাইভেট কার, কোমরে/গলায় কিংবা পকেটে ঝোলানো যেন তেন পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয় পত্র, দেখে বোঝার উপায় নেই এরা প্রতারক বা চাঁদাবাজ। এরা সরাসরি প্রবেশ করছে সরকারি দপ্তরে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে পড়ছে। থানায় যাচ্ছে, দালালি করছে। ব্যবসায়ী মহলকে বিপাকে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
কিছু ভুঁইফোড় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিক ও সম্পাদক নামধারী সুবিধাভোগীদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে এসকল নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের পরিচয় পত্র (সাংবাদিক কার্ড) বাগিয়ে নিয়ে চষে বেড়াচ্ছে যত্র তত্র।এতে করে পেশাদার সাংবাদিকরা আজ নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। ফলে অলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব ভুয়া মানবাধিকার সংগঠন। যার মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি তালা উপজেলায় “বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব” নামের একটি সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে। এদের সংগঠনে আনুপাতিক হারে পেশাদার সাংবাদিক না থাকলেও তারাই এখন তালা উপজেলায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের নূন্যতম শিক্ষাগতা জ্ঞানও নেই তাদের হাতে মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে মানবাধিকার কর্মীর আইডি কার্ড। এরা আবার তথাকথিত কেন্দ্রীয় কমিটি হতে ৫হাজার টাকা নিয়ে থানা কমিটি এবং ১০হাজার টাকার বিনিময়ে জেলা কমিটি গঠনের অনুমোদনও নিয়ে আসছে। মানবাধিকার নামক সংস্থায় কাজ করে মুরগী আর পান ব্যবসায়ী,মটর সাইকেল ড্রাইভার, চা বিক্রেতাও নামের আগে পিছে বসাচ্ছে ‘সাংবাদিক’। নিজের নাম লিখতে কলম ভাঙ্গে, যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিও পার হয়নি। সাংবাদিক বলতে গেলে উচ্চারণ করে বসে সামবাদিক, নিজের সংগঠনটির নাম পর্যন্ত বলতে পারে না-তারাই রাতারাতি মানবাধিকার-সাংবাদিক সংগঠনের নেতা বনে গেছেন। তাদের ভাবসাব দেখলে মনে হবে তারা যেন কোন বিশ্ব বিদ্যালয়ের জার্নালিজিয়ামের উপর ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। “ভুয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার জাল” কোন এক ছড়াকার টিটকারির সুরেই ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন- ’হঠাৎ করে এলো যে এক সাংবাদিক, কথায় কথায় তোলে ছবি ভাবখানা তার সাংঘাতিক। তিলকে সে বানায় তাল- তালকে আবার তিল, চড়ুইকে সে পেঁচা বানায় কাককে বানায় চিল।
এরা সাংবাদিকদের মতো বেশভুষায় সেজেগুজে অলিগলিসহ হাট-বাজার চষে বেড়াচ্ছেন। এরা পান থেকে চুন খসলেই রিতিমত বাহিনী নিয়ে হামলে পড়ছেন সেখানে। প্রকৃত ঘটনা কি- সে ঘটনার আদৌ কোনো নিউজ ভ্যাল্যু আছে কি না, সেসব ভেবে দেখার ফুসরৎ তাদের নেই।
এদিকে বেশ কিছুদিন আগে তালায় একজন ভূয়া সাংবাদিক সময় টিভির লোগোসহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আটক হন। সেখানে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান তিনি। তখন তার কাছ হতে ২টি টিভির লোগো কয়েকটি পত্রিকার আইডি কার্ড জব্দ হয়। সে তালায় স্টিকার সাইদ নামে পরিচিত হলেও থেমে থাকেনি তার দোরত্ব। সে কখনও উপজেলা নিবার্হী অফিসারের বিশেষ দূত,কখনও উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা কখনও সময় টিভির দক্ষিণঞ্চল প্রতিনিধি আবার কখনও পুলিশের সোর্স। করেছেন নতুন বাড়ি ও গাড়িও।
একজন মানবাধিকার কর্মী জানান, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নামের মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনের আইডি কার্ডে উপরে বড় করে লেখা রয়েছে “গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা”। একই ভাবে মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি নামেও আরেকটি সংগঠন সদস্যদের ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয়পত্র দেওয়ার নাম করে এক হাজার টাকা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন করে আ লিক পরিচালক, সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে আদায় করছে। তিনি আরোও জানান, এদের নানারকম দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নামধামের এসব মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকান্ড মনিটরিং না করায় বাধাহীনভাবে তাদের অপকর্ম বেড়েই চলেছে।
এবিষয়ে দুই থানার কর্মকর্তারা বলেন, শুধু তালা উপজেলায় নই সারা বাংলাদেশে এমন ভূয়া মানবাধিকার সংগঠন গড়ে উঠেছে। আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে এদের কে দামিয়ে রাখার চেষ্ঠা করি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতানের পৃষ্টপোষকতায় আবার তার প্রভাব খাটিয়ে বিস্তার লাভ করেন। পুলিশের সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমার অতি দ্রুত ভূয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী দের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।
উপজেলার দুই থানার প্রেসক্লাব ও রিপোটার্স ক্লাব এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দরা বলেন,শুধুমাত্র ভূয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার দের বিরেুদ্ধে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করলে হবে না। এদের বিরুদ্ধে আমাদের এক হয়ে উৎক্ষাত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পেশাদার সাংবাদিক ভাইয়েরা তাদের পেশাগত কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ