1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খলিশাখালিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, প্রশাসনের সহযোগীতা চান ভূমিহীনরা পাইকগাছার আমুরকাটায় মান্নান গাজীর নৌকা প্রতীকের পথসভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ ও ৬ষ্ঠ জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত কপিলমুনিতে গভীর রাতে ডাকাতির পরিকল্পনাকালে ১ ডাকাত আটক সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ রুহুল কুদ্দুসের সাথে সাংবাদিক ইউনিয়নের মতবিনিময় ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার, নেওয়া হলো র‌্যাব সদর দপ্তরে এবার শিক্ষার্থীদের নিয়ে হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন প্রাক্তন স্বামীকে খোঁচা দিলেন মাহিয়া মাহি? অসহায় মানুষের মাঝে রোটারী ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর ঢাকা’র পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা বিতরণ তালা সদরে লাঙ্গলের পথসভায় জনসমুদ্র

জামালপুরে সাক্ষী না হওয়ায় ধর্ষণ মামলার আসামী

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় আপন ভাতিজা ও তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় ২/৩নং আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সরিষাবাড়ী উপজেলার ৬নং ভাটারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ধোপাদহ পুকুরিয়া এলাকায়।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ধোপাদহ গ্রামের আঃ রহিম ভূইঁয়ার ছেলে মোঃ সাইদুর রহমান বিয়ে করেন তাঁরই এতিম চাচাতো বোন মলি আক্তারকে। মলি মামলার বাদী মজনু মিয়ার প্রথম পক্ষের মেয়ে এবং দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে উক্ত মামলার ধর্ষিতা ভিকটিম কনা আক্তার।
জানা যায়, মজনু মিয়া এক/দেড় বছর পূর্বে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসেন এবং এখানেই সে পরিবারপরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু মজনু মিয়ার পরিবারে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সংসারে সবসময় বিশৃঙ্খলা লেগে থাকে। বিশেষ করে দ্বিতীয় পক্ষের মা ও মেয়ের মধ্যে সব সময় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে বলে জানান মজনু মিয়া। এই দেখে প্রথম পক্ষের বড় মেয়ে মলি আক্তার সৎ বোন কনাকে আশ্রিতা হিসেবে তাঁর বাড়ীতে নিয়ে যান। অপরদিকে মলির মামাতো ভাই আপেল একই এলাকায় বিয়ে করায় আপেলের ছোটভাই আশেক আলী(১৯) প্রায়ই আসা যাওয়া করে মলির বাড়ীতে। এই সুবাদে কনার সাথে তাঁর পরিচয় হয় আশেকের।

এদিকে মামলা সূত্রে জানা যায়,ধর্ষক আশেক আলী(১৯) বলার দিয়ার গ্রামের মোঃ হেলাল উদ্দিনের ছেলে। সে গত শনিবার (১ নভেম্বর)তাঁর দাদী ফাতেমা বেগম(৫৫) সাথে নিয়ে সাইদুরের বাড়ীতে বেড়াতে আসে এবং ঐদিন দিবাগত রাতেই সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আশেক চুপিসারে কনার বিছানায় গিয়ে তাকে জোরপূর্ব ধর্ষণ করে। এ বিষয়টি কনা তাঁর দুলাভাই ও বোনকে আশেক চলে যাওয়া ৩দিন পর জানায় বলে জানান। সাইদুর ও মলি উক্ত বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান এবং কনার বাবা-মাকে বিষয়টি অবগত করেন। তাঁরা শুনার সাথেসাথেই ঝগড়াবিবাদ শুরু করেন এবং সাইদুর ও মলিকে কনার এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন ।একপর্যায়ে কনার বাবা মজনু মিয়া গ্রাম্য শালিসীর মধ্যদিয়ে সাইদুর ও মলিকে চাপ সৃষ্টি করে বলেন কনাকে আশেকের বিয়ে করতে হবে। কিন্তু সাইদুর আশেককে বিষয়টি জানালে আশেক তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে এবং ধর্ষণের ঘটনাটি সে অস্বীকার করে।

এদিকে মজনু মিয়া সাইদুরকে হুমকি দিয়ে বলে সে ধর্ষণের মামলা করবে তাকে ও তাঁর স্ত্রীকে সাক্ষী দিতে হবে। কিন্তু সাইদুর সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় মজনু মিয়া সাইদুর ও তাঁর স্ত্রী মলি আক্তারকে ২/৩ নং আসামী দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৯(১)/৩০ ধারা ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। এবিষয়ে সাইদুর সময় বার্তাকে জানান, কনা আমার চাচাতো বোন এবং সৎ শ্যালিকা আর আশেক আমার মামাতো শ্যালক। তাঁরা দুইজনেই আমার আত্মীয়। রাতের খাবার খাওয়ার পর আশেক, আমি ও আমার স্ত্রী একখাটে ঘুমিয়েছি এবং কনা ও আমার ভাগিনাসহ মলির নানী একখাটে ঘুমিয়েছে। রাতে কখন কিভাবে এঘটনাটি ঘটেছে তা আমরা কিছুই টের পাইনি।আমার ঘরের মধ্যে কোন পার্টিশন নেই। এ খাট হতে ও খাট দেখা যায়। তবুও আশোক কিভাবে জোরপূর্ব এই নাবালিকা মেয়েটিকে ঘরের মধ্যে ধর্ষণ করলো আমার বোধগম্যে আসেনা। তাই আমি উক্ত ঘটনাটি দেখিনি বলে সাক্ষী দিতে রাজি হইনি।কিন্তু কনার বাবা আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামী করেছে। সাইদুর আরও জানান, মামলা করা পর থেকেই মজনু মিয়া বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়ে আসছে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার। একপর্যায়ে গত(২৪ নভেম্বর) মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে ১২নং তিত্তপল­া ইউনিয়নের লেবুর মোড় এলাকায় হারুনের ঘরে বসে মজনু মিয়া ও তাঁর দুষ্টকর্মের সহযোগীরা মীমাংশার প্রস্তাব দেন সাইদুরকে। যে প্রস্তাবনায় ছিল ২টি ব্ল্যাঙ্ক চেক, ১’শ টাকা মূল্যের ৩টি সাদা ষ্ট্যাম (স্বাক্ষরকৃত) ও দেড় লক্ষ নগদ টাকাসহ আদালতে গিয়ে আশেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হবে। তা’না হলে সাইদুর এবং তাঁর স্ত্রীকে এ মামলা হতে নাম কেটে দিবেন না বলে জানান মজনু মিয়া। এমতাবস্থায় সাইদুর রহমান জানান মজনু মিয়া তাকে উদ্দেশ্যপ্রণীত ভাবে মামলার আসামী করে অর্থ হাসিলের অপচেষ্টায় নিমজ্জিত রয়েছেন। তিনি এ মামলার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে সাব্যস্ত করে শাস্তির দাবী জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ