1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে ডেল্টার ঢেউ: বিভিন্ন দেশে রেকর্ড সংক্রমণ প্রশংসা পাচ্ছে অপূর্ব-মেহজাবিনের ‘অন্য এক প্রেম’ কিছু বিদেশি গণমাধ্যম দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ দেয় আশাশুনিতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য সাজাপ্রাপ্ত আসামী দেলোয়ার গ্রেপ্তার দেবহাটায় নেট-পাটা অপসারণে ইউএনও’র অভিযান, জরিমানা শার্শায় এক সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সাতক্ষীরা সামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি রবি ভারী বর্ষণে প্লাবিত জনগণের পাশে সোহেল বাল্য বিবাহ; ছেলে, বর-কনের অভিভাবক ও পুরোহিতকে জরিমানা কপিলমুনিতে জনসম্মুখে টানানো হলো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের নামের তালিকা

জুতা তৈরি করে ভাগ্যবদল রাঙ্গুনিয়ার সুজনের

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬২১ বার পড়া হয়েছে

এম. মতিন, চট্টগ্রাম : প্রথমে জুতা সেলাই তারপর স্বল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করেন জুতা তৈরির ব্যবসা। অল্প সময়ের ব্যবধানে জুতা তৈরি করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে বাবার চিকিৎসা, সংসারের ভরনপোষণ ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছেন তিনি। বলছিলাম রাঙ্গুনিয়ার সুজন রবি দাশের কথা। হ্যাঁ জুতা তৈরি করে নিজের ভাগ্যবদল করেছন চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৪ নং মরিয়মনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের গঙ্গা রবি দাশের ছেলে সুজন রবি দাশ (৩০)।

সুজন রবি দাশ পারিবারিক অচ্ছলতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পাড়ি দিতে পারেননি। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর লেখাপড়ার পরিসমাপ্তি ঘটান। উপার্জনক্ষম বাবার অসুস্থতার কারণে অল্প বয়সেই হাল ধরতে হয় সংসারের। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ মা, ভাই বোনের ভরণ-পোষণের কথা চিন্তা করে ২০০৪ সালে মরিয়ম নগরের বিয়ান বাজারে একটি দোকান ঘর নিয়ে জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। তবে তার বাবা গঙ্গা রবি দাশও দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম শহরের একটি জুতার কারখানায় কাজ করেছেন। জুতা সেলাই করার ফাঁকে ফাঁকে বাবার কাছ থেকে জুতা তৈরির কলা-কৌশল শিখেন সুজন।

এরপর ২০১১ সালে বাবার কাছ থেকে সে জুতা তৈরির সকল কলা-কৌশল শিখে ফেলেন। পরে বাবার অনুপ্রেরণায় চাঁদপুর থেকে জুতা তৈরির প্রাথমিক যন্ত্রাংশ অর্থাৎ একটি বব মেশিন, একটি পেসার মেশিন, একটি সেলাই মেশিন এবং চট্টগ্রামের মাদাদবাড়ী থেকে ক্রেফসোল্ট ও ফাইবার কিনে নিয়ে আসেন। ২০১২ সালে প্রথম সে নিজে নিজে জুতা তৈরির কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে অল্পদিনের মধ্যেই সে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সকলের মাঝে পরিচিতি লাভ করেন। সুজনের তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তিনি এখন জুতার দক্ষ কারিগর। জুতা ও স্যান্ডেলের নমুনা তৈরি করেন। তার জুতার কদর বাড়ছে এখন সবার কাছেই। তার হাতের তৈরি নৃত্য নতুন ডিজাইনের জুতা তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছে ধারুনভাবে। শুধু তাই নয় গ্রাহক বা ক্রেতার চাহিদামতো মডেল পেলেই সুজন স্বল্প সময়েই জুতা তৈরি করে ফেলতে পারেন। বর্তমানে সুজন শুধু তার দোকানেই জুতা বিক্রি করেন না। তার হাতের তৈরি জুতা রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী চট্টগ্রাম শহর ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে।

সুজন রবি দাশ বলেন, ‘আমি ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় হঠাৎ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন, ফলে পরিবারে শুধু হয় অভাব টানাপোড়ন। পরে সাংসারের অভাব মেটাতে নিজেই বেছে নিলাম জুতা সেলাইয়ের কাজ। জুতা সেলাই করে যা আয় হয়, তা দিয়ে বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ এবং ছোট ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। পরে বাবার অনুপ্রেরণায় জুতা তৈরির কাজ শুরু করি। বর্তমানে পাইকারী জুতায় তেমন লাভ না হলেও সেলস বেশি হওয়ার কারণে পাইকারী জুতা বিক্রি হয় বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আছে একটি জুতার ফ্যাক্টরি করার, কিন্তু পুজিঁ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছেন। যদি সরকারি সহায়তা বা স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা পায়, তাহলে আমার ব্যবসাকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি মডেল হিসাবে দাঁড় করাতে পারবো।’ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খোঁজ নেব। তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন। এই ধরণের মানুষদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ