1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খলিশাখালিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, প্রশাসনের সহযোগীতা চান ভূমিহীনরা পাইকগাছার আমুরকাটায় মান্নান গাজীর নৌকা প্রতীকের পথসভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ ও ৬ষ্ঠ জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত কপিলমুনিতে গভীর রাতে ডাকাতির পরিকল্পনাকালে ১ ডাকাত আটক সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ রুহুল কুদ্দুসের সাথে সাংবাদিক ইউনিয়নের মতবিনিময় ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেফতার, নেওয়া হলো র‌্যাব সদর দপ্তরে এবার শিক্ষার্থীদের নিয়ে হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন প্রাক্তন স্বামীকে খোঁচা দিলেন মাহিয়া মাহি? অসহায় মানুষের মাঝে রোটারী ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর ঢাকা’র পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা বিতরণ তালা সদরে লাঙ্গলের পথসভায় জনসমুদ্র

মিষ্টির রাজ্যে রাজত্ব করছে সাতক্ষীরার মিষ্টি

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৭২ বার পড়া হয়েছে
ছবি: বাংলাদেশের মিষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে সাতক্ষীরার নাম

বাঙালির জীবনে মিষ্টি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। মিষ্টি শব্দটি শুনলেই জিভে জল চলে আসে। খাওয়ার শেষে মিষ্টি না হলে যেন রসনা পরিতৃপ্ত হয় না। ইংরেজরা রাতে খাওয়ার পর মিষ্টি জাতীয় জিনিস খায়, একে তারা ‘ডেজার্ট’ বলে। বাঙালি অবশ্য সকাল দুপুর রাত, খাওয়ার আগে কিংবা পরে যেকোনো সময়ই মিষ্টি খায়। বাংলাদেশের মিষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে সাতক্ষীরার নাম।

আলী মুক্তাদা হৃদয় : সাতক্ষীরায় ঘুরতে এসেছেন অথচ সাতক্ষীরার মিষ্টি চেখে দেখেননি এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। ময়রাদের হাতের জাদুকরী ছোঁয়ায় নানা রঙের নানান স্বাদের মিষ্টি তৈরি হয়। মিষ্টির পাশাপাশি সাতক্ষীরার সন্দেশও বেশ নামকরা। এই মিষ্টান্ন রসনা মেটাচ্ছে সারা দুনিয়ার মিষ্টিপ্রেমী মানুষের। সাতক্ষীরার ফকির ময়রার সন্দেশ, সরপুরি, প্যাড়া ও দইসহ বিভিন্ন মিষ্টান্নের স্বাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে। জেলার ঐতিহ্যবাহী ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, সাগর সুইটস, ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের তৈরি সন্দেশ, সরপুরি, প্যাড়া ও দই ছড়িয়ে যাচ্ছে সারাদেশে। এছাড়া মাতৃভাণ্ডার, জায়হুন ডেইরি শপ, সুশীল ময়রা, সাহা ও নুর সুইটসের মিষ্টি স্বাদে ও মানে অনন্য। সাতক্ষীরার ঘোষ সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘সাতক্ষীরা ঘোষ’ ডেইরির নামে এখন দেশের প্রায় সব জেলাতেই রয়েছে মিষ্টির দোকান।

এসব প্রতিষ্ঠানে তৈরি রসমালাই, কুসুমভোগ, ছানার জিলাপি, জামরুল, গোলাপ জাম, মৌচাক, বালিশ চমচম, দানাদার, দুধ মালাই, ক্ষীর সন্দেশ, রসগোল্লা ও দইয়ের চাহিদা বেশ। এছাড়া শীতের সময় উৎপাদিত নলেন গুড়ের সরপুরি ও প্যাড়া, সাদা সন্দেশ, রসমালাই মিষ্টির স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। জনপ্রিয় এসব মিষ্টির তৈরি শুরু হয় মূলত ষাটের দশকে। সে সময় গোলাম মোহাম্মদ ফকির আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী সাতক্ষীরা শহরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’। এটিই জেলার প্রথম মিষ্টির দোকান। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও পরিচিতি রয়েছে ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের। বর্তমানে আদি ‘ফকির মিষ্টান্ন ভান্ডার’ ও ‘ফকির মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামে দুটি দোকানে এই মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে। প্রায় একই সময়ে শেখ আব্দুর রশিদ নামে আরও একজন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠা করেন হোটেল সাগর (যার বর্তমান নাম সাগর সুইটস)। ভারতসহ সারাদেশে পরিচিতি রয়েছে সাগর সুইটসের। আর ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে দইসহ অন্যান্য মিষ্টি বিক্রি করছে। সাতক্ষীরায় মিষ্টি শিল্পের সফলতার বিষয়ে এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিস্তীর্ণ চারণ ভূমি থাকায় অনেক আগে থেকেই সাতক্ষীরার প্রায় বাড়িতে গরুর পালন করা হতো। তাছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখন বাণিজ্যিকভাবে নতুন নতুন গরুর খামার গড়ে উঠেছে। সরকারি হিসেবে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা সাতক্ষীরা। দুধের সহজলভ্যতা এই জেলার মিষ্টি উৎপাদন ও বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া এখানে উৎপাদিত মিষ্টির দামও অনেক কম।

ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম সময় বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে চারশ’ কেজি দুধের মিষ্টি তৈরি হয়। তৈরির পরপরই বিক্রি হয়ে যায় সব। তবে সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে পাইকারি বা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয় না। আমরা মিষ্টিতে খাঁটি গরুর দুধ ব্যবহার করি। এতে অন্য কিছু ভেজাল দেই না। এমনকি আমাদের অন্য কোথাও কোনো শাখা নেই।’ মিষ্টির স্বাদ, গুণ ও মানে শুরুর দিকের মিষ্টির সাথে বর্তমানের মিষ্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, দেশি গরুর দুধের মিষ্টি ভালো হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশি গরুর দুধ পাওয়া দুষ্কর। ফলে স্বাদে কিছুটা পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক। তবে মিষ্টি তৈরিতে কোনো কেমিক্যাল বা ভেজাল দেওয়া হয় না।

সাগর সুইটসের ম্যনেজার রেজাউল করিম বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। এটি এখনো সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে। আমাদের মিষ্টি নিয়ে কেউ কোনোদিন অভিযোগ দিতে পারেনি। যারা সাতক্ষীরায় আসেন তারা সাগর বললে এক নামে চেনেন।’ নতুন করে জনপ্রিয় হওয়া জায়হুন ডেইরি শপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান সময় বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম, দেশে ফিরে গরুর খামার করি। নিজের খামারে প্রতিদিন কয়েক’শ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। সেই দুধ দিয়েই মিষ্টি তৈরি করছি। বর্তমানে আমরা বিদেশ থেকে আনা মানবদেহের জন্য উপকারী বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার সমন্বয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ভিন্ন স্বাদের মিষ্টি তৈরি করছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ