1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সুইডেনের আদলে ২০০ কি.মি. বৈদ্যুতিক সড়ক বানাচ্ছে ভারত শিগগির বিয়ে করতে যাচ্ছেন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা! ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার তাগিদ ৪ মন্ত্রীর নরসিংদী পলাশে এক নারীর স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে ৭ নারী গ্রেফতার নলতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলেন তুফান গড়ইখালীর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু’র নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় কুলিয়ায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আছাদুল হকের মোটর শোভাযাত্রা দেবহাটার ওসি-সেকেন্ড অফিসারকে বদলী, ভারপ্রাপ্ত ওসি ফরিদ আহমেদ খলিশাখালি সহস্রাধিক বিঘা জমি দখলের ঘটনায় সরেজমিনে মামলার তদন্তে পিবিআই সাতক্ষীরায় তথ্য অধিকারের ওপর সচেতনতামূলক প্রচারণা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আলোচিত জান্নাতি হত‍্যার বিচার দেড় বছরেও হয়নি

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে
মোঃ রফিকুল ইসলাম শার্শা যশোরঃ নরসিংদি সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খানের নাতনি এবং শরীফুল ইসলাম খানের বড় মেয়ে অগ্নিদগ্ধে জান্নাতিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াবা সহ গ্রেফতারের পরেও একাধিক মাদক মামলার আসামির জামিন দেওয়া ও বিচারিক কাজে কালক্ষেপন এবং সুষ্ঠ বিচার না পাওয়ার সন্দেহ প্রকাশ করে জান্নাতির বাবা।
নরসিংদির বাদুয়ার চর কাজি আবুল হাসেম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় জান্নাতি আক্তার (১৬) চরহাজিপুর (খাসের চর) গ্রামের শান্তি বেগম এর ছেলে শিবলী আহমেদ শিবু (২৮) কে ভালবেসে ২০১৮ সালে বিয়ে করে। বিয়ের পর জান্নাতি আক্তার কে শান্তি বেগম পুত্র বধু হিসেবে মেনে নিলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাকে মাদক ব্যবসা করার জন্য এবং যৌতুকের জন্য জান্নাতিকে পরিবারিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু জান্নাতি আক্তার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে বড় হওয়ায় সে মাদক ব্যবসা করতে রাজি হয়নি। যার ফলে তাকে সহ্য করতে হয়েছে বহু অত্যাচার। সহ্য করতে হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে কয়েক বার তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরে আপোষ করে শান্তি বেগম পুত্র বধু জান্নাতি কে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপরেও মাদক ব্যবসা করার জন্য এবং যৌতুকের জন্য পরিবার থেকে জান্নাতিকে বারবার চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বলে অভিযোগ করেন জান্নাতির বাবা। কিন্তু জান্নাতি আক্তার রাজি না হওয়ায় তার শাশুড়ি শান্তি বেগম, শশুর হুমায়ুন (৫৫) পিতা- মৃত শফিক মিয়া, স্বামী- শিবলী আহমেদ শিবু, ও ননদ ফাল্গুনী আক্তার (১৯) পিতা হুমায়ুন সর্ব সাং চরহাজিপুর ( খাসেরচর), থানা ও জেলা নরসিংদি, উল্লেখিত ৪ জন মিলে গত বছর ২১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে জান্নাতিকে হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সকাল আনুমানিক ৭.৩০ মিনিটে শশুর বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে গত ০৫/০৫/২০১৯ ইং তারিখে নরসিংদি জেলা দায়রা জজ আদালতে নারী, শিশু নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করে অগ্নিদগ্ধ জান্নাতির দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান। মামলার নম্বর- ১৪৭/১৯। সে মোতাবেক মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই এর রির্পোটে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। জান্নাতির শরীরের বেশির ভাগ অংশই আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনাটি আনুমানিক সকাল ৭.৩০ মিনিটে ঘটলেও জান্নাতির শশুর বাড়ির কেউই জান্নাতিকে হাসপাতালে নিতে অস্বীকার করে। কিন্তু এলাকাবাসীর চাপে অবশেষে আনুমানিক দুপুর ১২.০০ টার সময় জান্নাতিকে নরসিংদি সদর হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়। সেখান থেকে একই দিনে অগ্নিদগ্ধ জান্নাতি কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান এবং ভর্তি করান জান্নাতির পরিবার। সেখানে ৪০ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ ৩১ মে মারা যায় জান্নাতি।
১৫ জুন ২০১৯ তারিখে জান্নাতির পিতা শরীফুল ইসলাম খান বাদী হয়ে শান্তি বেগম কে প্রধান আসামি সহ ৪ জনকে আসামি করে নরসিংদি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার ফলে পলাতক থাকা ৪ আসামিকে নাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। নিম্ন আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে কিন্তু তারা উচ্চ আদালতে থেকে জামিন নিয়ে বাদী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করতে থাকে। জানা যায়, অভিযুক্ত পরিবারটির সবাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। জান্নাতি হত্যার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় আবার ও মাদক ব্যবসা শুরু করে। জানা যায়, গত ২৯ জুন নরসিংদির বিলাসদির সাকিনস্থ নামক স্থানে নতুন রাস্তায় কালা মিয়ার চা এর দোকানের পাশে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নরসিংদি থানা পুলিশের  এস, আই  নইমুল ইসলাম মোস্তাক সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে ১০০ পিছ ইয়াবা সহ জান্নাতিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি শান্তি বেগম কে গ্রেফতার করে। শান্তি বেগমের স্বামী হুমায়ুন, গ্রাম- চরহাজিপুর, থানা ও জেলা- নরসিংদি। গ্রেফতারকৃত মাদক সম্রাজ্ঞী নারী কিলার শান্তি বেগমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ইয়াছমিন আক্তার ( ৪৯) পিতা- মৃত শফিক মিয়া, গ্রাম- দত্ত পাড়া, থানা ও জেলা নরসিংদি কে ও গ্রেফতার করা হয়। ইয়াছমিন আক্তার ( ৪৯) আসামি মাদক সম্রাজ্ঞী নারী কিলার শান্তি  বেগমের স্বামী হুমায়ুনের আপন বোন। এ ব্যাপারে নরসিংদি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে , যার নং- ৪৯, তারিখ ৩০ জুন ২০২০। পরে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু তারা উচ্চ আদালতে থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে জান্নাতির  পরিবারের অন্য সদস্যদের কে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখে বলে অভিযোগ করে জান্নাতির বাবা।
গত ২৪ নভেম্বর ২০১৯ইং তারিখ রোববার সকাল ১০ টায় ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ও গৃহবধু জান্নাতি (১৭) কে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত মানব বন্ধনে সভাপতিত্ব করে গণঅধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিকুজ্জামান। মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখে মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সৈয়দ আফতাবুল আলম লাই, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদ সেকান্দর হায়াত, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি সৈয়দ নাসিম সিরাজ রূদ্র, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমান্ড কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক এম এ ওয়াদুদ, দুস্থ্য নারী কল্যাণ উদ্যোক্তা সোনিয়া খান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিমাংস বিশ্বাস. সমাজসেবা কর্মী মোঃ নজরুল ইসলাম,  হকার্স ইউনয়িনের সভাপতি আব্দুল হাসিম কবির ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসিম উদ্দিন। বক্তাগণ জামিনে থাকা ৩ আসামিদের জামিন বাতিল করে তাদের কে দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
জান্নাতিকে হত্যার খবরটি দেশের বিভিন্ন বেসরকারী টিভি চ্যানেল সংবাদ প্রচার, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অগ্নিদগ্ধ জান্নাতির কান্না জড়িত ভিডিও  প্রচার হলেও জান্নাতিকে হত্যা মামলা, ইয়াবা সহ গ্রেফতার ও একাধিক মাদক মামলার আসামি উচ্চ আদালত থেকে বার বার জামিনে মুক্ত হয়ে জান্নাতির পরিবারকে এবং স্বাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং বিচারিক কাজে কালক্ষেপন হচ্ছে বলে জান্নাতির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করেন। জান্নাতি হত্যার সুষ্ঠ বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিস্পত্তি ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৬ নভেম্বর ২০২০ইং তারিখে জান্নাতি আক্তার হত্যা মামলার শুনানির দিন ধার্য্য ছিল কিন্তু শুনানি হয় নাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ