1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১২:২৫ অপরাহ্ন

মাদ্রাসা এমপিও ভুক্তির নামে পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে ২১ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালকসহ বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির পরিচালক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা শুরু। প্রাইম ব্যাংক, ডচ বাংলা ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করে ২২ লাখা টাকা। প্রতারনায় তাজমুন নাহার সরাসরি জড়িত।

আলী মুক্তাদা হৃদয় : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আল আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত করে দেওয়ার নামে চুপড়িয়া গ্রামের মোশাররফের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষকদের থেকে ২১ লক্ষ টাকা। মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, এ প্রতারণায় মোশাররফ হোসেনকে সহযোগিতা করেছে তার পিতা মুজিবর রহমান ও আপন বোন তাজমুন নাহার। এ ঘটনায় সদর উপজেলার চুপড়িয়া গ্রামের মোশারফ হোসেন, বোন তাজমুন নাহার ও তাদের পিতা মুজিবর রহমানের
বিরুদ্ধে ৪ অক্টোবর আল আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম রসুল জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোশাররফ হোসেন ঢাকায় থেকে সচিব, মন্ত্রী ও ক্ষমতাশীন দলের বিভিন্ন আমলাদের পরিচয় দিয়ে ও নাম ভাঙিয়ে চলে। তারই জের ধরে মোশাররফ হোসেন সচিব, মন্ত্রী ও ক্ষমতাশীন দলের বিভিন্ন আমলাদের পরিচয় দিয়ে মাদ্রাসার সুপার গোলাম রসুলের মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এমনকি তিনি বলেন, আমি একজন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক এবং বর্তমানে আমি বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির পরিচালক। আপনার আল আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত করে দেওয়া হবে। সচিব, অর্থ উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। তবে আপনার মাদ্রাসার এমপিও ভুক্ত করতে ৩০ লাখ টাকা দেওয়া লাগবে। মোশাররফ হোসেন এমন চুক্তি করেন মাদ্রাসার সুপারের সাথে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা সুপার মোশাররফ হোসেনের সাথে কথা বলার এক পর্যায় আল আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার এমপিও ভুক্ত করার জন্য ২০১৭ সালে ৩০ লাখ টাকার চুক্তির বিনিময়ে সরল বিশ্বাসে মোশাররফ হোসেনের কথা মত ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৮ ইং সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হিসাব ১৬২২১০২০০২৩৩১৪, ২১৬২২১৩০০৬২৫৬, নম্বরে, ডাচ বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হিসাব ২৫৮১৫১৩৫৪৪৫ নম্বরে ও বিকাশ ০১৭৫৯৯৬২২৯৮ মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোশাররফ হোসেন ও তার পিতা মুজিবর রহমান, বোন তাজমুন নাহারের কাছে মোট ২১ লাখ টাকা প্রদান করে মাদ্রাসার সুপার গোলাম রসুল। কিন্তু মাদ্রাসাটি ৩ বছরের মধ্যে এমপিও ভুক্ত করে দিতে পারেননি মোশাররফ হোসেন। এমপিও ভুক্ত করে দিতে না পারায় মোশারফ হোসেন ও তার পিতা মুজিবর রহমান, বোন নাহারের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা ফেরত নিতে মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে ধন্না দিতে থাকেন এবং মোশারফ হোসেনের ফোনে কথা বলতে থাকেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। কিন্তু মোশাররফ ও তার পিতা মুজিবর একের পর এক শিক্ষকদের ওয়াদা দিতে থাকেন। মোশাররফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি চুপড়িয়ায় একটি সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে ওই ২১ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং টাকা ফেরত দেবেন মৌখিক ভাবে এবং মোবাইল ফোনে স্বীকার করেন মোশাররফ হোসেন ও তার পিতা মুজিবর রহমান। মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, শিক্ষকরা টাকা ফেরত না পেয়ে আল আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম রসুল বাদী হয়ে মোশাররফ হোসেন ও তার পিতা মুজিবর রহমান, বোন নাহারের বিরুদ্ধে ১০নং আগরদাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর গ্রাম্য আদালতে মুজিবর রহমান হাজির হয়। তবে ওই মোশাররফ, বোন নাহার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে হাজির হননি। গ্রাম্য আদালতের বিচারকের কাঠ গোড়ায় মুজিবর রহমান হাজির ২১ লাখ টাকা নিয়েছে এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে গ্রাম্য আদালতে প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে।
কিন্তু মোশাররফ ওই টাকা ফেরত না দিয়ে তাল-বাহানা করছেন বলে অবশেষে মাদ্রাসার সুপার বাদী হয়ে পুলিশ সুপারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করনে। বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা শাখার ডিবি পুলিশ তদন্ত করেন। তদন্ত স্বার্থে বাদীসহ অভিযুক্তদের ডিবি পুলিশ অফিসে হাজির হবার আদেশ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে হাজির হন বিবাদী মুজিবর রহমান। কিন্তু হাজির হয়নি মোশাররফ ও বোন নাহার। বিবাদী মুজিবর রহমান ৩০ অক্টোবর তারিখে মধ্যে ২১ লাখ টাকা ফেরত দেবেন বলে ব্যক্ত করেন মুজিবর ও ফোনের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন মোশাররফ হোসেন বলে জানা যায়।
মাদ্রাসার সুপার অভিযোগ করেন বলেন, ৩০ অক্টোবর টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বিবাদীরা মাদ্রাসার টাকা আজও ফেরত না দিয়ে এরকম বহু বার বিবাদীরা একের পর এক তাল-বাহানা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেনে ও তার পিতা মো: মুজিবর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ও এলাকার সাধারণ মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ