1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে ডেল্টার ঢেউ: বিভিন্ন দেশে রেকর্ড সংক্রমণ প্রশংসা পাচ্ছে অপূর্ব-মেহজাবিনের ‘অন্য এক প্রেম’ কিছু বিদেশি গণমাধ্যম দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ দেয় আশাশুনিতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য সাজাপ্রাপ্ত আসামী দেলোয়ার গ্রেপ্তার দেবহাটায় নেট-পাটা অপসারণে ইউএনও’র অভিযান, জরিমানা শার্শায় এক সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ সাতক্ষীরা সামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি রবি ভারী বর্ষণে প্লাবিত জনগণের পাশে সোহেল বাল্য বিবাহ; ছেলে, বর-কনের অভিভাবক ও পুরোহিতকে জরিমানা কপিলমুনিতে জনসম্মুখে টানানো হলো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের নামের তালিকা

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগকর্মী বাবুর আত্মহত্যা : পরিবারটির পাশে গোলাম রাব্বানী

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

এসএম বাচ্চু,তালা : ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহননকৃত ছাত্রলীগকর্মীর পরিবারকে শান্তনা দিতে ছুটে আসেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টিম পজেটিভ বাংলাদেশের মুখপাত্র গোলাম রাব্বানী। রোববার বিকেলে সাতক্ষীরার তালায় আত্মহননকৃত ছাত্রলীগকর্মীর খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামে শোকাহত বাড়িতে যান ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দেন।
এ সময় রাব্বানী সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন ও বাবুর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ানুষ্ঠানের জন্য নগদ কিছু অর্থ প্রদান করেন।
আত্মহনন করা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মী শেখ রিয়াদ হোসেন বাবুর বাবা শেখ মনজুর রহমান জানান, ছাত্রলীগ করার জন্য বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে টাকা নিতো বাবু। সব টাকা দলের পেছনে খরচ করতো। তবে কোন পদ না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যার আগে তার ফেসবুক স্টাটাসে বাবু এসব লিখে গেছে। আমি চাই বাংলাদেশে যেন এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রলীগকর্মী বাবুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও সার্বিক খোঁজখবর নেন গোলাম রাব্বানী। আলাপ কালে ছাত্রলীগকর্মী বাবুর বাবা মনজুর রহমান দাবি করেন ছোট ছেলে শেখ রিফাতের লেখাপড়া শেষে একটি সরকারি চাকুরির দাবি করেন। এ সময় রাব্বানী সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন ও বাবুর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ানুষ্ঠানের জন্য নগদ কিছু অর্থ প্রদান করেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টিম পজেটিভ বাংলাদেশের মুখপাত্র গোলাম রাব্বানী বলেন, টাকার জন্য পদ না পেয়ে একজন ছাত্রলীগকর্মী আত্মহত্যা করবে এটি হতে পারে না। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমি ছুটে এসেছি। এই পরিবারটির পাশে আমি থাকবো। তারা যে ধরণের সহযোগিতা চাই সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। বাবুর ছোট ভাই শেখ রিফাতের একটি চাকুরির ব্যবস্থাও করা হবে।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সকল ছাত্রলীগ কর্মীকে মনে রাখতে হবে আগে লেখাপড়া তারপর রাজনীতি। লেখাপড়া বাদ দিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। জীবনে সফল হতে হলে এটিকে মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে। শেষে নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আত্মহনন করা ছাত্রলীগকর্মী শেখ রিয়াদ বাবুর কবরস্থান জিয়ারত করেন গোলাম রাব্বানী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন শেখ রিয়াদ হোসেন বাবু।পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বাবু।

পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-
নিজের কাছেই অবাক লাগছে। আজ এক সপ্তাহ হলো…। বিষের বোতল টা আমার বালিশের নিচে পড়ে আছে স্পষ্ট দেখতে পারছি। সবাই নির্বাক হয়ে গেছে। ছোটো ভাইটা পাগলপ্রায়। জানি ছোট বোনটা খুব কাঁদছে। অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি হয়তো! এমনটা তো হবার কথা ছিল না।
জানেন?, সেদিন খুব কেঁদেছিলাম আমি। যেদিন আমার হাতটা ছেড়ে দিয়েছিলেন সোহাগ দাদা। আমার বাঁচার শেষ আশাটুকু ছিলেন উনি। অঝরে কেঁদেছি সারারাত এই কদিন। প্রতি রাতে বালিশ ভিজিয়েছি চোখের জলে। একটি বারও খোঁজ নাওনি কেমন ছিলাম আমি।
আর, দোস্ত তোদের অনেক ধন্যবাদ। ফেসবুকে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করছিস। তবে কি জানিস? বাস্তবে এতটা সময় তোরা যদি দিতি…তাহলে, না থাক কিছু না।
জানি তোমরা খুব কাঁদছো। জানি খুব ভালোবাসতে আমাকে। হয়তো ঘৃণাও করতে অনেকে। যদি আর একটু খোঁজ করতে, আমার সমস্যাগুলো শুনতে…। যদি আমার দিকে আর একটু খেয়াল রাখতে…। যদি সবকিছু নির্ভয়ে বলতে পারতাম তোমাদের…। তাহলে আজ হয়তো…
ছোট বোন, কাঁদিস না লক্ষ্যটি। হয়তো সব থেকে বড় অন্যায় টা তোর সাথে হলো! মাফ করে দিস তোর এই অপরাধী ভাইটিকে। জানি এই ভুলের কোন ক্ষমা নেই। ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষগুলো। দূর থেকে না হয় দেখলাম সবার হাসিমাখা মুখ।
ভালো থেকো সবাই, হয়তো ফিরার ইচ্ছা থাকলেও চাইলে পারবো না। ক্ষমা করে দিয়ো তোমাদের সন্তানকে। এখানে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। সবাইকে ছেড়ে থাকাটা অনেক অনেক বেশি কষ্টের। অনেক বেশি ভুল করে ফেলেছি। ইসস যদি আর একটু সময় পেতাম। কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব না। ভালো থেকো সবাই।
দূর থেকে দেখবো সবাইকে। ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষগুলো। ক্ষমা করে দিবেন এই বাজে ছেলেটাকে। আমি নাকি খারাপ, হুম মানলাম বাট হয়তো এমন কাউকে পাবেন না যে প্রমাণ করতে পারবে আমি খারাপ। কারণ আমি আজ অবধি এমন কোনো কাজ করিনি যে প্রমাণ করতে পারবেন।
ছোটো বেলা থেকে আমার রক্তে মিশে আছে রাজনীতি। আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার দেখানো পথেই চলে আসছি আজ অবধি। চাকরি বা বিয়ে কোনোটাই করিনি ছাত্রলীগ করবো বলে। বাট আজ দলও টাকার কাছে জিম্মি। আমার জীবনে আর কি বাকি আছে, হয়তো বেঁচে থাকতাম দু-মুঠো ভাতের জন্যে। কিন্তু যখন অসহায় মানুষগুলো কাঁদে আমি তাদের কান্না সহ্য করতে পারি না। আমার নেতা বঙ্গবন্ধুও পারেনি। তাই তো সে নিজের জীবন দিছে, তবুও হার মানেনি, লড়াই করে গেছে অন্যায়ের বিপক্ষে সারাজীবন।
আমিও অন্যায় কে প্রশ্রয় দিতে পারিনি তাই আমি খারাপ। আমার জীবনে আজ অবধি যতো খারাপ সময় তার সব কিছু এই রাজনীতির জন্য। ভবিষ্যতের কথা ভাবিনি কখনো, আজ জীবনের এই শেষ সময় কেন জানি মনে হচ্ছে এই ছাত্রলীগের নেশাটাই আমাকে শেষ করে দিলো। হারিয়েছি সব, ঘর, পরিবার, ভালোবাসার মানুষ, কাছের মানুষ সব সব কিছু হারিয়েছি এই রাজনীতির জন্য। তাই চলে গেলাম এই নিষ্ঠুর স্বার্থের পৃথিবী থেকে। ক্ষমা করে দিবেন আমাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ