1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মচারীকে মারপিট করার অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিজ দপ্তরের অবসরে যাওয়া কর্মচারীকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত কর্মচারী সিরাজ উদ্দীন হালদার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পেনশনের ফাইল ছাড়াকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের নিজ কার্যালয়ে মারপিটের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনারপর আহত কর্মচারীকে দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম। এদিকে আহত কর্মচারী সিরাজের পাশে এসে দাড়িয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, পৌরসভার সরল গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদ্দীন হালদার দীর্ঘদিন উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রায় ১৫ বছর অত্র দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি এলপিআরএ যান। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জনবল সংকটের কারণে প্রায় ১০ মাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২৪ অক্টোবর সম্পূর্ণভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে নিজের পেনশন ফাইল ছেড়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে অনুরোধ করেন। এভাবে তিনি পেনশন ফাইল ছাড়ার জন্য গত দেড় মাস কর্মকর্তার কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ফাইলটি ছাড়ানোর জন্য বুধবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসে কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে ফাইলটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মকর্তা সিরাজের ওপর চড়াও হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কর্মকর্তা সিরাজকে কিল-ঘুষি সহ বেদম মারপিট শুরু করে। মারতে মারতে সিরাজ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লে তার বুকে সজরে লাথি মারে। এতে সিরাজ রক্তাক্ত যখম ও গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে সিরাজকে দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে আহত সিরাজের পাশে দাড়ানোর প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন ইউনিটি ফর হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে আহত সিরাজ জানান, আমি সম্পূর্ণভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ারপর স্যারের নিকট বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বুঝে দিয়েছি। কিছু ফাইল বুঝে দিতে গেলেও তিনি বুঝে নেননি। এদিকে চাকুরি জীবনের শেষ সম্বল পেনশন ফাইলটি ছাড়ার জন্য দীর্ঘদিন স্যারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। ফাইলটি না ছেলে স্যার আমাকে দিনের পর দিন ঘুরিয়েছেন। বুধবার দুপুরে দপ্তরে গিয়ে স্যারকে পুনরায় অনুরোধ করলে ফাইলটি ছাড়ার পরিবর্তে আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত যখম করে। প্রত্যক্ষদ্বশী মটবাটী শিশু ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি প্রজিত রায় জানান, ঘটনার সময় আমি প্রয়োজনীয় কাজে অত্র কার্যালয়ে গিয়ে ছিলাম। গিয়ে দেখি কর্মচারী সিরাজ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েছে আর কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান তার বুকের ওপর সজরে লাথি মারছে। তাৎক্ষনিকভাবে আমি ছুটে গিয়ে সিরাজকে উদ্ধার করি। দরগাহ মহল মহিলা সমিতির সভাপতি আকলিমা বেগম জানান, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে একাধিকবার অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন চেষ্টা তদবির করে বারবার তিনি এখানে ফিরে আসেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, অফিস সহকারী সিরাজ অবসরে গেলেও অফিসের অনেক ফাইল সে এখনো বুঝে দেয়নি। ফলে তার পেনশন ফাইলটি ইচ্ছে করলেও ছাড়তে পারছি না। ঘটনার দিন সে আমার ওপর অসম্মানজনক আচারণ করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি হয়। তবে তাকে মারপিট করা হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়। ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম জানান, বুধবার দুপুরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবসরে যাওয়া কর্মচারীর মধ্যে অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা ঘটেছে এমন খবর পেয়ে উভয়ের সাথে বলে বিষয়টি নিরসন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক নার্গিস ফাতেমা জামিন জানান, একজন কর্মচারী অবসরে যাওয়ারপর সে খুব সহজেই পেনশন ভাতা সহ অন্যান্য সুবিধা পাইবে এটি তার মৌলিক অধিকার। এ নিয়ে হয়রানি কিংবা ঘুরানোর কোন সুযোগ নাই। কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান একজন কর্মচারীর সাথে যে আচারণ করেছে এটি কখনো কাম্য নয়। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ