1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন

শিক্ষকের জমি দখলের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

এসএম বাচ্চু,তালা: এবার অসহায় শিক্ষকের পৈত্রিক সম্পর্ত্তি দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জোর পুর্বক জমি দখল করে চেয়ারম্যানের তৈরী করেছেন বিলাস বহুল বাড়ি। বসবাস করছেন দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে মারপিটের সহ জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেন চেয়ারম্যান রফিকুলের পেটুয়া বাহিনী। এদিকে,জমি হারিয়ে সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতে মামলা করেছেন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সাত্তার গংরা। যার মামলা নং ২৭১৭। জমি জবর-দখলে বাধা বা পুলিশের কাছে গেলেই শিক্ষক পরিবারের উপর নেমে আসে হামলা মামলাসহ নানা নির্যাতন। জমি রক্ষায় চেয়ারম্যানের হাতে পায়ে ধরেও শেষ রক্ষা হয়নি শুভাষিনী গ্রামের শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার গংদের। চেয়ারম্যান ও তার পেটুয়া বাহিনীর অত্যাচারে পৈত্রিক সূত্রে ভোগদখলীয় জমি হারিয়ে বিচারের আশায় ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।  এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার সহ চেয়ারম্যান রফিকুলের অসহনীয় অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রায় ৩০টি অভিযোগ নিয়ে দুনীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ জন ইউপি সদস্যদ্বয়। যা তদন্ত চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধান টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষক আব্দুস ছাত্তারের পিতা মৃত্যু সাদের আলী শেখ ১৯৬৪-৬৫ সাল হতে ওই জমি ভোগদখল করতেন। তার মৃত্যুতে তার পুত্র শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার শেখ, সরোয়ার শেখ, আবু সাইদ শেখ ও আব্দুস সামাদ শেখ এই জমির মালিক হয়ে ভোগদখলে ছিলেন। কিন্তু গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরদার রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান হলে ছাত্তার গংদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। বে-দখল হয়ে যায় তাদের ভোগদখলীয় পৈত্রিক সম্পত্তি। অসুসন্ধানে আরও জানাযায়, রফিকুল চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ছোট একটি দোচালা বসবাসও করতেন। সেই চেয়ারম্যান রফিকুলের এখন জবরদখলের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন ৩ টি বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ী, জবরদখল করে মালিক হয়েছেন ১০ টিরও অধিক মাছের ঘের সহ কোটি কোটি টাকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই রাতে তার পেটুয়া বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে যায়।মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ধুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় ।জেলে পচে মরবো! পরে বউ বাচ্চা না খেয়ে মরবে। তাই মুখ বুঝে সহ্য করি। চেয়ারম্যান রফিকুল শুভাষিনী গ্রামের যে জমিটি দখল করেছে সেটির আসল মালিক শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার গংরা।
শুভাষিণী গ্রামের মৃত তকিম মোড়লের পুত্র কেসমত আলী মোড়ল (৪৫) বলেন, বহুদিন যাবৎ আমি ছাত্তার মাষ্টার ও তার ভাইদের এই জমিতে ভাগে চাষাবাদ করতাম। এই ২বছর রফিকুল চেয়ারম্যান জোর পূর্বক দখল করে বসতবাড়ি তৈরী করেছেন।  একই গ্রামের মৃতঃ কছিম মোড়লের পুত্র সহিদুল ইসলাম মোড়ল (৬০) বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকে দেখেছি ওই জমি ছাত্তার মাষ্টারের পিতা ভোগদখল করে। রফিকুল চেয়ারম্যান হয়ে গাঁয়ের জোরে সেই জমি দখল করে যেখানে বিলাসবহুল বাড়ি করে ছোট বউ নিয়ে বসবাস করে।  অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, শুভাষিণী মৌজার ১১৯৩, ১১৯৪, ও ১১৯৫ দাগের ১ একর সম্পত্তি পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করতাম। আমরা চেয়ারম্যান রফিকুলকে জায়গাটি লিখে দেইনি। কিন্তু সরদার রফিকুল চেয়ারম্যান হওয়ার পর এই জমি নিয়ে ভূয়া কাগজ তৈরী করে ক্ষমতার বলে জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বিলাসবহুল বাড়ি তৈরী করে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন।আর তার এই জমিদখলের মুলহোতা হলেন দ্বিতীয় পক্ষের শ^শুর জমির মোড়ল (৫৫),ফজলে মোড়ল (৬২),বজলে মোড়ল (৫৭),ছমির মোড়ল (৫৮), হায়দার আলী (৪৫) ও আব্দুর রহমান মোড়ল। এরাই চেয়ারম্যানে রফিকুলের বিরুদ্ধে লাঠিবাজি করে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দখল করেছেন আমাদের জমি। জমি থেকে বিতাড়িত হয়ে আমি চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করি যা এখনো চলমান। জমি হারিয়ে আমরা পথে পথে ঘুরলেও রফিকুলের পেটুয়া ও সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেহই সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছে না । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান রফিকুল শুভাষিনী গ্রামের যে জমিটির উপর বাড়িটি করছেন সেটি জোরপূর্বক দখল করেছে। চেয়ারম্যানের পেশীশক্তি বেশি। সবসময় সাধারণ জনগণকে হুমকির উপর রাখে। তার বিরুদ্ধে মুখ খোলা যায় না। আমরা এলাকায় শান্তি চাই।(তথ্য প্রমান ভিডিও ধারণকৃত)
ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে তেুতুলিয়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন রফিকুল ইসলাম জানান, আমার নিজস্ব জমিতে বাড়ির করেছি। তারা কোন প্রকার প্রমাণ দেখাতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, কাগজ যার,জমি তার। এটাই বাস্তবতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ