1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

গাছে গাছে মুকুল আশা বাড়ছে আম চাষীদের

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : চলতি বছরে সাতক্ষীরায় আম গাছ মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটা গ্রামে আমের মিষ্টি ঘ্রানে মৌ মৌ গন্ধে সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটি অ ল প্রকৃতির অন্যরূপে সাজতে শুরু করেছে। মৌমাছি গুন গুন শব্দ যেন ফাগুনের হাওয়ায় নতুন সুর তুলছে। প্রকৃতি যেন নতুন উৎপাদন সম্ভবনার ডাক দিচ্ছে।
জেলায় আমের মুকুল ভাল হওয়ার কারণে ভাল ফলন আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। জেলায় ৫২৪৭ টি বিভিন্ন জাতের আম বাগানে চাষীরাও আমগাছ পরিচর্যার ক্ষেত্রে বেশ যতœবান হচ্ছে। কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার আমচাষী আবতাব আহম্মেদ জানান,আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন আশা করছি। আমার বাগনে অধিকাংশ গাছে এবার মুকুল এসেছে। পাশ্ববর্তী বাগান গুলোতেও ভাল মুকুল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে,প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন আশা করছে সবাই। যেহেতু জেলার আম রপ্তানী হয় সেহেতু একটু বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়। বিষমুক্ত আম উৎপাদনে যথেষ্ট সচেতন জেলার আমচাষীরা। আমের সুনামও বাড়ছে। চাষী এবং চাষের পরিমানও বাড়ছে।  আমচাষী তালার অজিয়ার হোসেন জানান, কৃষি অফিসারদের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই তারা পুরো গাছ সাইপারম্যাক্সিন ও কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়েছি। এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষকজাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। ফলনও ভাল পাওয়া যাবে। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আম ব্যবসায়ী সাইফুল্লা জানান, সাত লাখ টাকা দিয়ে তিনটি আম বাগান কিনেছি। এ বছর আমের মুকুলের (স্থানীয় ভাষায় বইল) ভাগ খুব ভাল। সুষ্ঠভাবে আম সংগ্রহ করতে পারলে বেশী লাভের আশা করছেন তিনি। সাতক্ষীরার আম এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে সুনাম বয়ে আনছে। দেশের আ লিক আবহাওয়ার ভিন্নতার কারণে জেলার পরিপক্ক আম একটু দ্রুত সংগ্রহ করা যায়। ফলে চাষীরা লাভবান হয়। নতুন ফল উঠার সাথে সাথে মানুষের একটু চাহিদা বাড়ে।  জেলার কৃষি অফিসের তত্ত¡াবধানে দুটি জাত নেংড়া ও হিমসাগর সাতক্ষীরা থেকে বিদেশে যায়। ২০১৮-১৯ আর্থ বছরে ইতালী,সুইডেন,ডেনমার্ক ও ফ্রান্স এই চারটি দেশে মোট ২০০ মেট্রিকটন আম রপ্তনী করে। আয় করে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকা। কৃষি অফিসের তথ্য মতে,জেলয় চাষকৃত উল্লেখযোগ্য আমের জাত হিমসাগর, আ¤্রপালি, নেংড়, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, লতা, মল্লিকা, হাড়িভাঙ্গা, গোপালী ধোপা ও নিলম্বরী। এর মধ্যে প্রথমে পাকে গোবিন্দভোগ এবং শেষে পাকে নিলম্বরী জাতের আম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এ বছর আম গাছে মুকুল ভাল আসা শুরু করছে। পরিচর্যা ভাল হলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে চাষী এবং ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। উৎপাদন বাড়বে। উপজেলা কৃষি অফিসগুলো চাষীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছে। নিখুত এবং বিষমুক্ত আম উৎপাদনে সচেতনতার সাথে তৎপর রয়েছি। সাতক্ষীরার আম বিদেশ রপ্তানী হয়েছে। বিদেশে আরো নতুন মার্কেট খুজছে বাংলাদেশ।  কৃষি অফিস বলছে, চলতি বছরে ৪১০০ হেক্টর জমি আম চাষের আওতায় আনা হয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে ৫০০০ মেট্রিবটন আম উৎপাদন আশা করা হচ্ছে। জেলার সাতটি উপজেলার সবচেয়ে বেশী সদরে ১২৩০ হেক্টর জমিতে ১০৪৫৫ মেট্রিবটন এবং সবচেয়ে কম আশাশুনি উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে ৩৯১৫ মেট্রিকটন আম উৎপাদন আশা করছে দপ্তরটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ