1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

কয়েক বছরে অবৈধ অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক চোরাকারবারী মন্টু

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় হাড়দ্দাহ গ্রামের চিহ্নিত শীর্ষ চোরাকারবারী হাফিজুর রহমান মন্টুর ট্রলার ভর্তি অবৈধ মালামাল চোরাচালানের সময় হাড়দ্দাহ এলাকার ১১ জনসহ মোট ১৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। বৃহষ্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিন জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট ওয়াশিম আকিল জাকি’র নেতৃত্বে কোস্ট গার্ড সদস্যরা কুয়াকাটার অদুরে ২নং বয়ারচর এলাকায় সাগর থেকে চোরাচালানের সময় ভারতীয় থ্রি পিছ ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল ভর্তি ট্রলারসহ তাদেরকে আটক করেন। কোস্ট গার্ডের ভোলা সিজি’র গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটককৃত হাড়দ্দাহ গ্রামের ১১ জনের মধ্যে সর্বশেষ যে ৯ জনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, হাড়দ্দাহ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ও চোরাকারবারী মন্টুর আপন সহোদর রবিউল ইসলাম রবি (৩৬), ভাইপো সবুর হোসেন (১৭), হানিফ সরদারের ছেলে আসাদুল (৩৮), গোলাম হোসেনের ছেলে রনি (২৫), দেছার উদ্দীনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩২), আব্দুল মাজেদের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৩), হামিদ উদ্দীনের ছেলে খালিমুল ইসলাম (৪০), মুনসুরের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২) ও নুর মোহাম্মাদের ছেলে জাকির হোসেন (৪০)। আটককৃতদের পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, হাড়দ্দাহ গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে চিহ্নিত চোরাকারবারী হাফিজুর রহমান মন্টু দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার নদী ও সাগর পথে ভারত থেকে মুল্যবান শাড়ী, থ্রি-পিছ সহ অন্যান্য অবৈধ মালামালের চোরাচালান করে আসছে। চোরাচালানে তার রয়েছে নিজস্ব দ্রুত গতি সম্পন্ন একাধিক ট্রলার। এসব ট্রলারে চোরাচালানের কাজে সে ব্যবহার করতো হাড়দ্দাহ এলাকার নীরিহ মানুষদের। বিগত কয়েক বছরে রীতিমতো আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে চোরাকারবারী মন্টু। জেলা ও জেলার বাইরের চোরাকারবারীদের কাছে মন্টু ‘জঙ্গলের ব্যবসায়ী’ হিসেবেও সুপরিচিত। সুনিদ্দিষ্ট কোন স্বচ্ছ ব্যবসা না থাকলেও বর্তমানে ব্যাপক অর্থ সম্পদের মালিক মন্টু। হাড়দ্দাহ গ্রামে রয়েছে তার বিলাসবহুল একটি বাড়ী। এছাড়া কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আরো একটি বাড়ী নির্মানের কাজ চলছে তার। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে একাধিক একাউন্টে রয়েছে কালো টাকার পাহাড়। রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ীও। জেলার অভ্যন্তরে চোরাকারবারী মন্টুর ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার অর্থসম্পদ রয়েছে। যার বিপরীতে সরকারকে আয়করও দেননা মন্টু। ভারতের খিদিরপুর সহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মুল্যবান শাড়ি, থ্রিপিছ সহ অন্যান্য অবৈধ মালামাল ট্রলারভর্তি করে নদী ও সাগর পথে সেগুলোর কোটি কোটি টাকার চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে চোরাকারবারী মন্টু। বৃহষ্পতিবার চোরাকারবারী মন্টুর ট্রলারভর্তি এমনই একটি অবৈধ মালের বড় চালানসহ হাড়দ্দাহ গ্রামের ১১ জনকে আটক করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এঘটনার পর থেকে বেশ গা ঢাকা দিয়েছে সে। এদিকে চোরাকারবারী মন্টুকে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন আটককৃতদের স্বজনরা। এদিকে চোরাচালানের অবৈধ ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে চোরাকারবারী মন্টু এলাকাবাসী ও আটককৃত ১১ জনের স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ