1. mirzaromeohridoy@gmail.com : Kazi Sakib : Kazi Sakib
  2. hridoysmedia@gmail.com : news :
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:১১ অপরাহ্ন

জনগুরুত্বপূর্ণ পারিশামারী রাস্তা সংস্কার; যাতায়াতের দূর্ভোগ কমলো এলাকাবাসীর

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ পারিশামারীতে ১ হাজার ফুট দৈর্ঘের মাটির রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। এর ফলে উন্নত হয়েছে এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা। বিশেষ করে রাস্তাটি সংস্কার করার ফলে স্কুলগামী ছেলে মেয়েদের যাতায়াতে দূর্ভোগ কমেছে। এটি সংস্কার করার ফলে ¯øুইচ গেটের খালের জোয়ারের উপচে পড়া পানি যাতায়াতের রাস্তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারবে না বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। তবে উন্নয়নের এ কাজকে ঘিরে এলাকার একটি মহল বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
সূত্রমতে, উপজেলার অবহেলিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সোলাদানা অন্যতম। চিংড়ি অধ্যুষিত এ এলাকায় রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী ও খাল। ইউনিয়নের প্রায় সমস্ত জায়গা জুড়ে রয়েছে চিংড়ি ঘের। ফলে চিংড়ি ঘেরের ঢেউয়ে এলাকার বেশিরভাগ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাটির রাস্তাগুলো ভেঙ্গে চুরে সরু হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচলে চরম দূর্ভোগ পেতে হয়। ইউনিয়নের অন্যান্য রাস্তার ন্যায় পারিশামারীর মাটির রাস্তাটি দীর্ঘদিন ছিল অবহেলিত। অত্র এলাকায় রয়েছে পারিশামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় বিদ্যালয়টি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহত হয়ে থাকে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার কারণে স্কুলগামী ছেলে মেয়ে সহ এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পেতে হয়। এলাকাবাসীর ভোগান্তি কথা চিন্তা করে দূর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় পারিশামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বৈরাগী বাড়ী অভিমূখে ১শ ফুট (৩শ মিটার) দৈর্ঘের ও ৩ মিটার প্রস্থের মাটির রাস্তা সংস্কারে ১০ টন গম বরাদ্দ করা হয়। যদিও বরাদ্দকৃত ১০ টন গম পরবর্তীতে সাড়ে ৭ টন চাল হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময় বর্ষা মৌসুম হওয়ায় এবং চিংড়ি ঘেরে পানি থাকায় মাটির প্রাপ্তিতা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে মাটির অভাবে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন চরমভাবে বাঁধাগ্রস্থ হয়। এক পর্যায়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এতে এলাকাবাসী উন্নয়ন থেকে বি ত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে এমন আশংকায় এলাকাবাসী এবং ঘের ব্যবসায়ীসহ অনেক জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা কর্তৃপক্ষকে প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। মানুষের চলাচলের দূর্ভোগ ও এলাকার উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রকল্প কমিটিতে বিলম্বে কাজ করার সুযোগ করে দেন। প্রকল্প কমিটি ইতোমধ্যে সংস্কার কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন। এটি করার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুবিধা বি ত ওই এলাকার মানুষ। এদিকে প্রকল্পের এ কাজ নিয়ে এলাকার একটি মহল বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রশাসন সহ সবাইকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এতে দলীয় নেতাকর্মী সহ অনেকের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক দীপংকর কুমার সানা জানান, রাস্তাটি সংস্কার করার ফলে আমরা যারা এলাকায় বসবাস করি আমাদের সকলের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। বিমল মন্ডল জানান, এটি করার ফলে এলাকার শত শত মানুষের চলাচলে আর ভোগান্তি পেতে হবে না। পরিতোষ সানা জানান, রাস্তাটি সংস্কার করায় এলাকাবাসীর যেমন উপকার হয়েছে তার চেয়ে স্কুলগামী ছেলে মেয়েদের যাতায়াতের বেশি সুবিধা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগনেতা এমএম আজিজুল হাকিম জানান, আগামী ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার একটি মহল ও ব্যক্তিবিশেষ উন্নয়ন কাজকে ঘিরে আমাকে জড়িয়ে এলাকায় অপপ্রচার করছে। দৃশ্যমান এ উন্নয়ন কাজকে ঘিরে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি তোরাব আলী সরদার জানান, বর্ষা মৌসুম এবং চিংড়ি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে একটু দেরী হয়। তবে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, মাটির অভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরী হওয়ায় বরাদ্দ ফেরত দেওয়ার উপক্রম হয়। এক পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সহ এলাকাবাসীর অনুরোধে একটু দেরীতে হলেও প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে কাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। দেরীতে শুরু করা হলেও প্রকল্প কমিটির নিকট থেকে কাজের নির্ধারিত যে পরিধি রয়েছে তার চেয়ে বেশি করে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পে ৩ মিটার প্রস্থ ধরা হয়েছে। অথচ সংস্কার করা হয়েছে ৩.৬ মিটার। ১ হাজার ফুট দৈর্ঘের স্থলে ১২শ ফুট রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। উন্নয়ন কাজে কোন ধরণের অনিয়ম হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট এ কর্মকর্তা জানান। বর্ষা মৌসুমের কারণে সংস্কার কাজ শুরু করতে দেরী হওয়ার বিষয়টি প্রকল্প কমিটি আমাকে অবহিত করেন এবং এ কারণে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ